Logo Logo

মানবতার সেবায় অনন্য দৃষ্টান্ত

মুকসুদপুরের সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন এখন অসহায়দের শেষ আশ্রয়স্থল


Splash Image

গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার জলিরপাড় ইউনিয়নের অবহেলিত বানিয়ারচর গ্রাম। নদী ভাঙনে বিপর্যস্ত এবং দীর্ঘদিনের নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত এই জনপদে অসহায় ও প্রতিবন্ধী মানুষের জীবনে আশীর্বাদ হয়ে দেখা দিয়েছে 'সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন'। স্ট্রোকজনিত প্যারালাইসিসে আক্রান্ত রোগী, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিশু এবং দুস্থ মানুষের জন্য এই প্রতিষ্ঠানটি এখন কেবল একটি সেবাকেন্দ্র নয়, বরং নতুন জীবনের আশার আলো।


বিজ্ঞাপন


২০২৩ সালে বানিয়ারচর খেয়াঘাট সংলগ্ন একটি ভাড়া বাসায় ক্ষুদ্র পরিসরে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনটি আজ সভারঞ্জন শিকদারের অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও ত্যাগের বিনিময়ে একটি পূর্ণাঙ্গ সেবাকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। এখানে বিনামূল্যে আধুনিক ফিজিওথেরাপি, আবাসন, খাদ্য সহায়তা এবং পুনর্বাসন সেবা প্রদান করা হচ্ছে, যা গ্রামীণ জনপদে এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় দুই হাজার পরিবার এই নদী ভাঙন কবলিত এলাকায় দীর্ঘকাল ধরে বসবাস করলেও উন্নত চিকিৎসা সেবা থেকে তারা বঞ্চিত ছিল। এই বাস্তবতায় সম্প্রীতি এইড ফাউন্ডেশন তাদের একমাত্র ভরসাস্থল হয়ে উঠেছে। প্রতিষ্ঠানের মহৎ উদ্দেশ্যে অনুপ্রাণিত হয়ে স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম বিশ্বাস, গৌতম বিশ্বাস ও সুমন বৈরাগী তাদের মালিকানাধীন প্রায় ৩০ শতাংশ জমি ও বসতঘর প্রতিষ্ঠানটিকে দান করেছেন। এলাকাবাসীর দাবি, মানবিক এই প্রতিষ্ঠানটিকে স্থায়ী রূপ দিতে এই জমিটি সরকারি প্রক্রিয়ায় ফাউন্ডেশনের নামে বরাদ্দ দেওয়া হোক।

প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক সভারঞ্জন শিকদার বলেন, "আমি নিজের জন্য কিছু করতে আসিনি, মানুষের জন্য কিছু রেখে যেতে চাই। যারা চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মারা যান, তাদের জন্যই এই প্রচেষ্টা। সরকারিভাবে জায়গার স্থায়ী বরাদ্দ পেলে এখানে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিউনিটি হাসপাতাল গড়ে তোলা সম্ভব হবে।"

সেবাগ্রহীতা মেরী বিশ্বাস ও প্রতিবন্ধী রোগী জোসনা পান্ডে জানান, এখানে তারা চিকিৎসা ও থাকার সুব্যবস্থা পাচ্ছেন। তবে জরুরি মুমূর্ষু রোগীদের যাতায়াতের জন্য একটি অ্যাম্বুলেন্স এখন সময়ের দাবি। সমাজসেবক কামাল শেখ বলেন, বর্তমান সময়ে সভারঞ্জন শিকদারের মতো মানবসেবক বিরল।

জলিরপাড় ইউনিয়ন বিএনপির নেতা সুরেশ বৈরাগী জানান, গোপালগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি এমপির কাছে জমি বরাদ্দের আবেদন জানিয়ে বলেন, কিছু স্বার্থান্বেষী মহল এই মহৎ উদ্যোগের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। অপর নেতা সুবোধ চন্দ্র মন্ডল এই অপতৎপরতার প্রতিবাদ জানিয়ে সবাইকে মানবতার পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।

ফাউন্ডেশনের চিকিৎসক ডা. শুভ্রা শিকদার জানান, প্রতিদিন অসংখ্য রোগী আসছেন। আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো বাড়ানো গেলে সেবার মান আরও বিস্তৃত করা সম্ভব হবে। সম্প্রতি দক্ষিণ কোরিয়ার ভলান্টিয়ার ডো ইল কিম এবং ইউন জং বেক প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শন করে এর কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

বর্তমানে এখানে অর্থোপেডিক, নিউরোলজিক্যাল, পেডিয়াট্রিকসহ বিভিন্ন ফিজিওথেরাপি সেবা এবং প্রতিবন্ধী শিশুদের জন্য বিশেষ শিক্ষা ও ফ্রি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ চালু রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক সহযোগিতা পেলে এই মানবিক উদ্যোগ হাজারো অসহায় মানুষের ভাগ্য বদলে দিতে সক্ষম হবে।

প্রতিবেদক- কে এম সাইফুর রহমান, গোপালগঞ্জ।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...