বিজ্ঞাপন
গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোবিন্দ চন্দ্র সরদার জানান, জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রত্যক্ষ প্রশিক্ষণ ও নিয়মিত পরামর্শে খামারিরা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিকভাবে গবাদি পশু মোটাতাজা করেছেন। ক্ষতিকর কোনো রাসায়নিক বা অপদ্রব্য ব্যবহার ছাড়াই খড়, গম ও ডালের ভূষি, কাঁচা ঘাস, খৈল এবং ধানের কুঁড়া খাইয়ে এসব পশু পালন করা হয়েছে। ফলে এই পশুর মাংস মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ।
জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার দেওয়া তথ্যমতে, কোরবানির জন্য প্রস্তুতকৃত পশুর তালিকায় রয়েছে ২১ হাজার ২টি ষাঁড়, ১৭৫টি বলদ, ৫ হাজার ২৫১টি গাভী, ৮০টি মহিষ, ১৪ হাজার ২৯৫টি ছাগল এবং ১৫৫টি ভেড়া। খামারিরা এখন পশু বাজারজাতকরণের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মধ্য করপাড়া গ্রামের নারী খামারি ফাতেমা বেগম ও চন্দ্রদিঘলিয়া গ্রামের খামারি আরিফ মোল্লা জানান, এ বছর গো-খাদ্যের দাম চড়া থাকায় গত বছরের তুলনায় লালন-পালন খরচ অন্তত ২০ শতাংশ বেড়েছে। বিদেশি পশু দেশের হাটে না আসলে এবং দেশি গরুর সঠিক বাজারমূল্য নিশ্চিত হলে তারা লাভবান হওয়ার আশা প্রকাশ করেন। খামারিদের দাবি, পশুর হাটে যেন কঠোর নজরদারির মাধ্যমে বিদেশি গরুর প্রবেশ ঠেকানো হয়।
বাজার ব্যবস্থাপনার বিষয়ে ডা. গোবিন্দ চন্দ্র সরদার জানান, জেলার ৫টি উপজেলায় এবার মোট ১৫টি পশুর হাট বসবে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩টি, মুকসুদপুরে ৪টি, কাশিয়ানীতে ৩টি, কোটালীপাড়ায় ৪টি এবং টুঙ্গিপাড়ায় ১টি হাট রয়েছে। এসব হাটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের স্বাস্থ্য ও পশুর নিরাপত্তা নিশ্চিতে ১৫টি মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। এছাড়া ছিনতাই রোধ ও জাল টাকা লেনদেন বন্ধে ক্যাশলেস (নগদবিহীন) লেনদেনের বিশেষ ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাস চন্দ্র সেন বলেন, খামারিদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে হাটে বিদেশি পশুর আমদানি নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি গবাদি পশু পরিবহন নির্বিঘ্ন করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের নিরাপত্তার আশ্বাস পাওয়া গেছে।
অন্যদিকে, চামড়া সংরক্ষণের আগাম প্রস্তুতির বিষয়ে গোপালগঞ্জ বিসিকের এজিএম এ.কে.এম কামরুজ্জামান জানান, জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে কোরবানির পশুর ক্রেতা ও বিভিন্ন মাদ্রাসাগুলোতে বিনামূল্যে লবণ সরবরাহ করা হবে, যাতে পশুর চামড়া সঠিকভাবে সংরক্ষণ করা সম্ভব হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...