Logo Logo

মিথ্যা যৌন নিপীড়নের মামলায় শশুরকে ফাঁসাতে গিয়ে পুত্রবধূ কারাগারে, শ্বশুর কারামুক্ত


Splash Image

ঝালকাঠির নলছিটিতে শ্বশুরের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এনে দায়ের করা মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় মামলার বাদী পুত্রবধূ নাসরীন আক্তারকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে এই মামলায় আগে থেকে কারাগারে থাকা অভিযুক্ত শ্বশুর নুরু সরদারকে (৬৫) আদালত জামিন প্রদান করেছেন।


বিজ্ঞাপন


আজ সোমবার (১৮ মে) দুপুরে ঝালকাঠির চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এইচ. এম. কবির হোসেন এই তাৎপর্যপূর্ণ আদেশ দেন। ঝালকাঠির নলছিটি আমলী আদালতের জেনারেল রেকর্ড অফিসার (জিআরও) মো. এনামুল হক গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

আদালত ও মামলা সূত্রে জানা গেছে, নলছিটি উপজেলার ভৈরবপাশা ইউনিয়নের ঈশ্বরকাঠি গ্রামের বাসিন্দা নাসরিন আক্তার তার আপন শ্বশুর নুরু সরদারের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়ন ও হেনস্তার গুরুতর অভিযোগ এনে নলছিটি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে গত ১৪ মে পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে বৃদ্ধ নুরু সরদারকে গ্রেপ্তার করে এবং আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠায়। পুত্রবধূর করা শ্বশুরের বিরুদ্ধে এমন স্পর্শকাতর মামলাটি পরবর্তীতে স্থানীয় পর্যায়সহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্য ও আলোচনার সৃষ্টি করে।

আজ সোমবার ঝালকাঠি আদালতে আসামি নুরু সরদারের পক্ষে তার আইনজীবী জামিনের আবেদন পেশ করেন। শুনানিকালে মামলার বাদী পুত্রবধূ নাসরিন আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে আসামির জামিন আবেদনে কোনো প্রকার অনাপত্তি নেই বলে জানান। একপর্যায়ে বিজ্ঞ আদালতের সামনে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্বীকার করেন যে, তার শ্বশুরের বিরুদ্ধে আনা যৌন নিপীড়নের অভিযোগটি মোটেও সত্য ছিল না। পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে তিনি এই মিথ্যা মামলাটি দায়ের করেছিলেন।

বাদীর এমন চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির পর, বিচারক এইচ. এম. কবির হোসেন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে আইনের অপব্যবহার ও মিথ্যা অভিযোগে মামলা দায়েরের দায়ে বাদী নাসরিন আক্তারকে তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। একই আদেশে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হওয়া প্রবীণ অভিযুক্ত নুরু সরদারের জামিন মঞ্জুর করে তাকে অবিলম্বে মুক্তির আদেশ দেন।

নলছিটি আমলী আদালতের জিআরও মো. এনামুল হক জানান, আদালতে শুনানিকালে বাদী নিজেই তার দেওয়া পূর্বের অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য ও বানোয়াট বলে স্বীকার করেছেন। বিজ্ঞ বিচারক আইন অনুযায়ী তার জবানবন্দি নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত আদেশ প্রদান করেন।

এদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী ও আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আক্কাস সিকদার রায়ের পর সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, “তদন্ত ও বাদীর জবানবন্দিতে মূল অভিযোগটি সম্পূর্ণ অসত্য ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছেন। মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করার অপরাধে বাদীকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে এবং ভুক্তভোগী প্রবীণ ব্যক্তিকে জামিন দেওয়া হয়েছে। এই আদেশের ফলে সমাজে মিথ্যা মামলা দায়েরের প্রবণতা হ্রাস পাবে।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...