বিজ্ঞাপন
গতকাল বুধবার (২০ মে) রাত ১১টার দিকে হলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে শিক্ষার্থীরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে রাত ১২টার দিকে আন্দোলন সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
আবাসিক শিক্ষার্থীরা জানান, গত দুই সপ্তাহ ধরে হযরত বিবি খাদিজা হলের ছাদের সংস্কারকাজ চলছিল। কাজের শেষ দিন ছাদ সংস্কারকাজে নিয়োজিত এক শ্রমিক হলের পেছনের ব্লকের ছাদে একটি কুরুচিপূর্ণ ও আপত্তিকর ছবি আঁকেন। বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা প্রথম ছবিটি দেয়ালে দেখতে পান এবং এর পরপরই সাধারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া ছাত্রীদের অভিযোগ, কিছু শ্রমিক দীর্ঘদিন ধরে হলের আশেপাশে কাজ করার সময় ছাত্রীদের উদ্দেশে অশোভন আচরণ ও নানাবিধ ইঙ্গিত করে আসছিলেন।
উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা হলের মূল ফটকে অবস্থান নিয়ে দোষী শ্রমিকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, হলের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা জোরদার এবং ক্যাম্পাসে বহিরাগত শ্রমিকদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণের দাবি জানান। রাত ১২টা পর্যন্ত চলা এই বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এসে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শিক্ষার্থীরা শান্ত হন এবং কর্মসূচি স্থগিত করেন। তবে দাবি পূরণে কালক্ষেপণ করা হলে আরও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
হযরত বিবি খাদিজা হলের প্রভোস্ট আব্দুল কাইয়ুম মাসুদ এ প্রসঙ্গে বলেন, বুধবার সকালে শিক্ষার্থীরা দেয়ালে অঙ্কিত একটি চিত্রের বিষয়ে হল প্রশাসনকে অবহিত করে। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে প্রকৌশলীসহ প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং জড়িতদের শনাক্ত করার চেষ্টা চালান।
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে সুনির্দিষ্টভাবে কাউকে শনাক্ত করা না যাওয়ায় তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ হিসেবে চিত্রটি দেয়াল থেকে মুছে ফেলা হয় এবং সকালে বিষয়টি সাময়িকভাবে সমাধান করা হয়েছিল। তবে রাত ১১টার দিকে হঠাৎ করেই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীরা পুনরায় ক্ষুব্ধ হয়ে হলের ফটকে বিক্ষোভ শুরু করেন। উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে সকালে শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পুনরায় বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে এবং সেখানে বিষয়টি গুরুত্বের সাথে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...