Logo Logo

গোপালগঞ্জে চাহিদার চেয়ে সাড়ে ৫ হাজার কোরবানিযোগ্য পশু উদ্বৃত্ত


Splash Image

আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা-২০২৬ উদযাপন উপলক্ষে গোপালগঞ্জ জেলায় কোরবানিযোগ্য পশুর চাহিদার তুলনায় ৫ হাজার ৫১৭টি গবাদিপশু উদ্বৃত্ত রয়েছে। জেলার ৫টি উপজেলার ৪ হাজার ৮৩৮টি খামারে সম্পূর্ণ দেশীয় ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মোট ৪০ হাজার ৯৫৮টি সম্পূর্ণ নিরাপদ গবাদিপশু প্রস্তুত করা হয়েছে। যেখানে জেলায় কোরবানির পশুর মোট চাহিদা ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার ৪৪১টি।


বিজ্ঞাপন


জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের কঠোর তদারকিতে কোনো প্রকার ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বা অপদ্রব্য ছাড়াই এসব পশু মোটাতাজা করা হয়েছে। ফলে উৎপাদিত গবাদিপশুর মাংস মানবদেহের জন্য সম্পূর্ণ নিরাপদ বলে নিশ্চিত করেছেন কর্মকর্তারা।

গোপালগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. গোবিন্দ চন্দ্র সরদার জানান, “আমাদের জেলা কোরবানির পশু উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও উদ্বৃত্ত। জেলায় প্রস্তুতকৃত ৪০,৯৫৮টি পশুর মধ্যে ২১ হাজার ২টি ষাঁড়, ১৭৫টি বলদ, ৫ হাজার ২৫১টি গাভী, ৮০টি মহিষ, ১৪ হাজার ২৯৫টি ছাগল এবং ১৫৫টি ভেড়া রয়েছে।”

উপজেলাওয়ারী পশু প্রস্তুত ও উদ্বৃত্তের চিত্র:

গোপালগঞ্জ সদর: প্রস্তুত ৯,২৫০টি; চাহিদা ৯,০১৪টি (উদ্বৃত্ত ২৩৬টি)।

মুকসুদপুর: প্রস্তুত ১২,১৮৭টি; চাহিদা ১১,৭৫৫টি (উদ্বৃত্ত ৪৩২টি)।

কাশিয়ানী: প্রস্তুত ৬,৯২০টি; চাহিদা ৪,৫৮৫টি (উদ্বৃত্ত ২,৩৩৫টি)।

কোটালীপাড়া: প্রস্তুত ৮,৩৬২টি; চাহিদা ৫,৯৬৫টি (উদ্বৃত্ত ২,৩৯৭টি)।

টুঙ্গিপাড়া: প্রস্তুত ৪,২৩৯টি; চাহিদা ৪,১২২টি (উদ্বৃত্ত ১১৭টি)।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আরও জানান, খড়, গম ও ডালের ভূষি, কাঁচা ঘাস, খৈল ও কুঁড়া খাইয়ে এসব পশু প্রাকৃতিকভাবে বড় করা হয়েছে। বর্তমানে জেলার ১৫টি নির্ধারিত স্থানে গবাদিপশু ক্রয়-বিক্রয়ের হাট বসেছে, যেখানে মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক নিয়োজিত রয়েছে।

হাটে জালনোটের ব্যবহার এবং ছিনতাইকারীদের হাত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতাদের রক্ষা করতে গোপালগঞ্জে বিশেষ উদ্যোগে ৬টি ক্যাশলেস (Cashless) পশুর হাট বসানো হয়েছে। এখানে কোনো প্রকার অতিরিক্ত খরচ ছাড়াই ক্রেতা-বিক্রেতারা সরাসরি ব্যাংক হিসাব বা ডিজিটাল মাধ্যমে টাকা লেনদেন করতে পারবেন, যার ফলে নগদ টাকা বহনের বড় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. প্রভাষ চন্দ্র সেন বলেন, “আমাদের উদ্বৃত্ত গবাদিপশু ঢাকা বা অন্যান্য জেলায় নিরাপদে পরিবহনের জন্য আমরা জেলা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেছি। তারা মহাসড়কে খামারিদের নিরাপত্তা ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াতের সব ধরনের আশ্বাস দিয়েছেন।”

গোপালগঞ্জ শহরের সোনাকুড় গ্রামের সফল খামারি রাধেশ্যাম পোদ্দার বলেন, “প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পরামর্শে এ বছর ৮টি গরু মোটাতাজা করেছি। গোখাদ্যের দাম চড়া থাকায় খরচ কিছুটা বেশি হয়েছে। ভারত বা অন্য দেশ থেকে অবৈধ পশু না আসলে অন্তত ৫০ লাখ টাকায় এগুলো বিক্রি করে ন্যায্য মূল্য পাব বলে আশা করছি। স্থানীয় প্রশাসন সব ব্যবস্থা করে দিয়েছে, এখানে বিক্রি না হলে ঢাকা নিয়ে যাব।”

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...