বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, রামু উপজেলা ভূমি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে কানুনগো বদলি হওয়ার পর থেকে পদটি রহস্যজনকভাবে খালি রয়েছে। একটি উপজেলা ভূমি ব্যবস্থাপনার প্রধান স্তম্ভ হলেন কানুনগো, অথচ এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন কোনো কর্মকর্তা পদায়ন না করায় আটকে পড়েছে শত শত মিস মামলা ও নামজারির ফাইল। জনসাধারণের পক্ষ থেকে বারবার অভিযোগ করা হলেও সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলা প্রশাসন কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নিচ্ছে না বলে অভিযোগ সচেতন মহলের।
এদিকে আরও ভয়াবহ সংকটে পড়েছে রামুর তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন—খুনিয়া পালং, দক্ষিণ মিঠাছড়ি ও রাজারকুল। এই তিন ইউনিয়নের একমাত্র ভূমি সেবা কেন্দ্র ‘ধেচুয়া পালং ইউনিয়ন ভূমি অফিস’। গত এক মাস আগে এখানকার তহসিলদারের পদোন্নতিজনিত কারণে বদলি হওয়ার পর থেকে অফিসটি সম্পূর্ণ অভিভাবকহীন ও চালকবিহীন অবস্থায় চলছে।
তহসিলদার না থাকায় সরকারি নিয়ম অনুযায়ী অফিসের অনলাইন ‘আইডি’ (ID) সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। এর ফলে গত এক মাস ধরে এই তিন ইউনিয়নের শত শত নামজারি (মিউটেশন) আবেদন ঝুলন্ত অবস্থায় রয়েছে। সাধারণ মানুষ তাদের খাজনা বা দাখিলা পর্যন্ত দিতে পারছেন না। জমির জরুরি কাগজপত্র ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ায় চরম হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। জরুরি প্রয়োজনে জমি কেনাবেচা বা ব্যাংক লোন নেওয়ার মতো কাজগুলো পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়েছে।
কাঙ্ক্ষিত এবং ন্যায্য ভূমি সেবা না পেয়ে সাধারণ মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ছেন। অনেকে ক্ষুব্ধ হয়ে মাঠপর্যায়ের এই চরম অব্যবস্থাপনার জন্য সরকারের ডিজিটালাইজেশন প্রক্রিয়া নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করছেন, যা সরকারের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, একটি চক্র ইচ্ছা করেই এই সংকট জিইয়ে রেখে দালাল চক্রকে ভারী করার সুযোগ করে দিচ্ছে। অবিলম্বে ধেচুয়া পালং ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দক্ষ তহসিলদার এবং রামু উপজেলা ভূমি অফিসে জরুরি ভিত্তিতে কানুনগো পদায়নের জন্য তারা ভূমি মন্ত্রণালয় ও কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের তীব্র দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।
মহাসংকটের এই সার্বিক বিষয়ে বক্তব্য জানার জন্য রামু উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডের সরকারি মুঠোফোন নাম্বারে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...