বিজ্ঞাপন
স্থানীয় ও শিক্ষার্থী সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে সুনামের সাথে পরিচালিত হয়ে আসছিল সীমান্তবর্তী শালবাহান দ্বি-মুখী উচ্চ বিদ্যালয়টি। কিন্তু সম্প্রতি শিক্ষকদের পারস্পরিক মতবিরোধ, পরীক্ষার হলে নকল বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ এবং ভুয়া সনদ ব্যবহার করে সরকারি অর্থ (বেতন-ভাতা) উত্তোলনের মতো গুরুতর বিষয় নিয়ে এলাকায় তীব্র সমালোচনা চলছে।
এরই ধারাবাহিকতায় গত বৃহস্পতিবার (২১ মে) দুপুর ২টা ১১ মিনিটে বিদ্যালয়টিতে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মূল ফটকসহ প্রতিটি কক্ষ তালাবদ্ধ। পুরো বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ সুনসান নীরব। কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বিদ্যালয়ের বাইরে ঘোরাঘুরি করতে দেখে জিজ্ঞেস করলে তারা জানায়, ২টা বাজার সাথে সাথেই স্যাররা স্কুল ছুটি দিয়ে দিয়েছেন। তবে কী কারণে নির্ধারিত সময়ের আগে ছুটি দেওয়া হলো, তা তারা জানে না।
নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে বিদ্যালয় ছুটি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও এলাকাবাসী। এতে করে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শিক্ষকরা আজকে সরকারি বেতন-বোনাস পেয়েছেন। তাই ২টা বাজতেই স্কুল ছুটি দিয়ে সবাই মিলে ব্যাংকে টাকা তুলতে দৌড়েছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার চেয়ে তাদের কাছে নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বেশি গুরুত্বপূর্ণ!”
এই বিষয়ে জানতে সহকারী শিক্ষক সোহেল রানার মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি তড়িঘড়ি করে বলেন, “আমি ব্যাংকে আসছি, ব্যস্ত আছি। যা জানার প্রধান শিক্ষককে ফোন দিয়ে শুনেন।” এরপর দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করলেও তিনি আর বিদ্যালয়ে ফেরেননি।
এদিকে শালবাহান উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবু বক্কর ছিদ্দিক কাবুল নির্ধারিত সময়ের পূর্বেই স্কুল ছুটি দেওয়ার বিষয়টি অকপটে স্বীকার করে বলেন, “আজকে আমি শেষ কার্যদিবস পালন করেছি। শিক্ষকরা ক্লাসে থাকতে চাচ্ছিল না, তাই ছুটি দিয়ে দিয়েছি।”
একের পর এক কেলেঙ্কারির ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, বিদ্যালয়টিকে ঘিরে শিক্ষক জালিয়াতি ও প্রশ্ন ফাঁসের মতো ঘটনা ফাঁসের পর তড়িঘড়ি করে স্কুল বন্ধ করা মোটেও স্বাভাবিক নয়। তারা পুরো ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ব্যাপারে তেঁতুলিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার শওকত আলীর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি এক প্রকার অসহায়ত্ব প্রকাশ করে বলেন, “আমি প্রধান শিক্ষককে ফোন দেবো, তবে তিনি ফোন ধরবেন কিনা আমি জানি না।”
অন্যদিকে, সার্বিক বিষয়ে জানতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুর মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...