বিজ্ঞাপন
হামলার ঘটনায় পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের দাওকাঠি গ্রামের দুলাল মোল্লার ছেলে মামুন মোল্লা, (৩০) সাকিব মোল্লা (১৯) রবিউল মোল্লা ( ৩০)ইমরান মোল্লা ও সুমাইয়া আক্তার (১৯) নলছিটি উপজেলার মানপাশা ইউনিয়নের রুহুল আমিনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২০)।
উভয় পক্ষের আহতরা হলেন, আরিফুল খান (৪০) সাইফুল খান (৩৫) আবির খান (২৫) কামাল শিকদার (৪০) তাসলিমা বেগম (৪৮) সুমাইয়া আক্তার(১৯) হাসিব মোল্লা (২১) সুমি আক্তার( ২০) সাহানাজ বেগম (২২) জাহিদুল ইসলাম (২০)।
৫ জুন ২০২৬ শুক্রবার বিকাল সাড়ে পাঁচটারদিকে উপজেলার রঙ্গশ্রী ইউনিয়নের দাওকাঠি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। দুলাল মোল্লা একই গ্রামের মৃত চান্দু মোল্লার ছেলে। ফারুক সিকদার তাদের প্রতিবেশী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাওকাঠী গ্রামের দুলাল মোল্লার পুত্র রাকিব মোল্লা,একই গ্রামের জামাল সিকদারের মেয়েকে প্রেমের প্রস্তাব দেয় তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে পরিবারকে জানালে জামাল সিকদার তার মেয়েকে ঢাকায় নিয়ে তার বনের বাসায় রেখে মেয়েকে চয়ন খান নামে এক যুবকের সঙ্গে বিয়ে দেয়, ১ জুন জামাল সিকদারের মেয়ে তার স্বামী চয়ন খানকে নিয়ে বাবার বাড়িতে বেড়াতে আসে। এতে ক্ষীপ্ত হয় রাকিব মোল্লা, ২ জুন রাতে রবিউল মোল্লা ও বেল্লাল ফকিরের পুত্র হাসিব ফকিরসহ আর অজ্ঞাত কয়েক জনমিলে মোঃ জামাল সিকদারের মেয়ে জামাতা মোঃ চয়ন খানের কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে।
এতে গুরুতর আহত হয় চয়ন খান, বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় ৩ জুন রাতে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে থানায় একটি মামলা হয়।
গতকাল ৫ জুন শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটায় আসামিদের গ্রেপ্তার পূর্বক বিচারের দাবিতে শ্যামপুর-বাকেরগঞ্জ সড়কের দাওকাঠী মাদারিয়া পাড় রাস্তায় মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে। এতে করে দুলাল মোল্লার পরিবার একপর্যায়ে ক্ষিপ্ত হয়ে আবির খান (২৫) ও আরিফুল খান (৪০) দুইজনকে কুপিয়ে জখম করে।
আহতদের স্থানীয়রা উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে ফারুক সিকদার ও জামাল সিকদার তাদের লোকজন নিয়ে ওই দুলাল মোল্লার ঘরে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে বলে অভিযোগ। এ অগ্নিকান্ডে নগদ টাকা, জমির দলিল ও বিভিন্ন প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন দুলাল মোল্লার পরিবার।
ভুক্তভোগী দুলাল মোল্লার স্ত্রী তাসলিমা বেগম জানান, আমাদের বসতঘর ভাংচুর করে এসময় তাদের বাধা দিতে গেলে আমাদের পরিবারের ৭ জনকে কুপিয়ে জখম করেছে এরপরে ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় এসময়ে আমরা ডাক-চিৎকার করলে আসপাশের লোকজন ছুটে এসে উদ্ধার করে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে, সেখানে চিকিৎসাধীন আছি।ঘন্টা খানেক পরে জানতে পারি বাকেরগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
এ ব্যাপারে অভিযোগ অস্বীকার করে ফারুক সিকদার ও জামাল সিকদার বলেন আমরা দুলাল মোল্লার ঘর পুড়ে যাওয়ার বিষয়ে কিছুই জানিনা। তবে আমরা মানববন্ধন শেষে যে জার মত করে বাড়িতে ফিরতে ছিলাম ওই মুহূর্তে দুলাল মোল্লা ও তার পুত্ররা মিলে আমাদের লোকজনের ওপর হামলা চালায়,এতে আবির খান ও আরিফুল খান গুরুতর আহত হয়েছেন, তারা বর্তমানে বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন।
বাকেরগঞ্জ থানা অফিসার ইনচার্জ আদিল হোসেন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে স্থানীয় উৎসুক জনতা অগ্নি সংযোগের ঘটনা ঘটাতে পারে, তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...