বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে গোপালগঞ্জের জেলা ও দায়রা জজ মোহাম্মাদ সামছুল হক জনাকীর্ণ আদালতে এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত আলীম কাজী গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের চর মানিকদাহ গ্রামের কাজীর বাজার এলাকার মৃত ইসমাইল কাজীর ছেলে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, আলীম কাজী দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। ২০২৩ সালের ১২ মে সন্ধ্যায় তিনি মাদক সেবন করে বাড়িতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও ভাঙচুর শুরু করেন। এ সময় তার বাবা ইসমাইল কাজী বাধা দিলে ক্ষিপ্ত হয়ে আলীম তাকে দেখে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বাড়ি থেকে চলে যান।
পরদিন ১৩ মে সকালে ইসমাইল কাজী বাড়ির পাশে আখের রস বিক্রির উদ্দেশ্যে আখ পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় আলীম একটি ধারালো বটি নিয়ে এসে আকস্মিকভাবে তার বাবার গলায় সজোরে কোপ দেন। এতে ইসমাইল কাজীর শ্বাসনালী কেটে যায় এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের বড় ছেলে সেলিম কাজী বাদী হয়ে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করে।
মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি আলীম কাজীকে দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে তাকে আরও ছয় মাসের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। একই সঙ্গে আদালত তাকে জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এম এম জুলকদর বলেন, “এ রায়ে আমার মক্কেল সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। বিজ্ঞ বিচারক ন্যায়ের পক্ষে রায় দিয়েছেন।”
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আবু তালেব শেখ বলেন, “এই আদালতে আমরা ন্যায়বিচার পাইনি। তাই ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...