বিজ্ঞাপন
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর মাঝ বরাবর বড় দুটি অংশ ভেঙে নিচের ফাঁকা অংশ দৃশ্যমান হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে কংক্রিটে ফাটল ও ক্ষয়ের চিহ্ন স্পষ্ট। সেতুর দুই পাশের রেলিং ভেঙে গিয়ে বেরিয়ে রয়েছে লোহার রড, যা এর নাজুক অবস্থার প্রমাণ বহন করছে। এছাড়া সেতুর নিচের পিলার ও মূল কাঠামোর বিভিন্ন অংশেও বয়সজনিত ক্ষয় এবং ফাটল দেখা গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা উত্তম মন্ডল জানান, বহু বছর ধরে সেতুটি সংস্কার কিংবা পুনর্নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। অথচ এই সেতুই খড়িয়া সবুজ পল্লী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ পুরো গ্রামের মানুষের একমাত্র চলাচলের পথ।
আরেক বাসিন্দা উজ্জল মন্ডল বলেন, প্রতিদিন কোমলমতি শিক্ষার্থী, অভিভাবক, কৃষক ও সাধারণ মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি ব্যবহার করছেন। যে কোনো সময় প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
স্থানীয় প্রশনজিৎ মন্ডলের ভাষ্য, সেতুর মাঝখানে সৃষ্টি হওয়া বড় গর্তে অসাবধানতাবশত যে কোনো সময় মানুষ বা যানবাহন পড়ে মারাত্মক দুর্ঘটনার শিকার হতে পারে। বিশেষ করে বর্ষাকাল কিংবা রাতের অন্ধকারে ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম বলেন, প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত সেতুটি অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঢালাই নষ্ট হয়ে লোহার রড বেরিয়ে এসেছে। বর্তমানে এটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। নতুন একটি সেতু নির্মাণ করা হলে এলাকাবাসী নিরাপদে চলাচল করতে পারবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাজিব বিশ্বাস জানান, সেতুটি এখন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে নতুন একটি সেতু নির্মাণের জন্য প্রকল্প প্রস্তাব করা হবে।
এদিকে স্থানীয় বাসিন্দারা অবিলম্বে সেতুটি পরিদর্শন করে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে চলাচল নিয়ন্ত্রণ, সংযোগ সড়ক নির্মাণ এবং দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, কোনো প্রাণহানির ঘটনা ঘটার আগেই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষার জরুরি পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...