বিজ্ঞাপন
হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী ও এশিয়া পোস্টের ক্যাম্পাস সাংবাদিক আবু উবাইদা এবং আব্দুল কাদের জীবনসহ একই বিভাগের ৮ জন শিক্ষার্থী। এ ছাড়া বাংলা, লোকপ্রশাসন, সিএসই, হিসাববিজ্ঞান ও ইংরেজি বিভাগের একাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগী সূত্রে জানা গেছে, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের ফেসবুক পেজে গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আরফান সিফাতের অনৈতিক কর্মকাণ্ডের একটি ভিডিও প্রকাশের অভিযোগ ওঠে। এর জের ধরে কথা বলার অজুহাতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আবু উবাইদা ও সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবনকে নভোথিয়েটারের সামনে ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পৌঁছানোর পরপরই সিফাতের নেতৃত্বে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়।
খবর পেয়ে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অন্য শিক্ষার্থীরা সহপাঠীদের উদ্ধার করতে গেলে তাদেরও আটকে রেখে দীর্ঘক্ষণ মারধর করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকপ্রশাসন, কোস্টাল অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট ও ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থীরা বাধা দিতে গেলে তাদের ওপরও চড়াও হয় হামলাকারীরা। পূর্বপরিকল্পিতভাবে লাঠি, রড, পাইপ ও ইটপাটকেল নিয়ে প্রায় ৪০-৫০ জন শিক্ষার্থী এই হামলায় অংশ নেয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
হামলায় গণিত বিভাগের শিক্ষার্থীদের মারধরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকর্মীও আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফ হোসাইন শান্তসহ একাধিক নেতাকর্মী তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে হামলার সময় পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আরও বেশ কয়েকজন সাংবাদিক হেনস্তার শিকার হন। সংবাদ সংগ্রহের সময় 'আজকালের কণ্ঠ'-এর সাংবাদিক আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং 'দৈনিক আমার দেশ'-এর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মাসুদ রানার ওপর হামলা চালানো হয়। ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের মোবাইল ফোনও কেড়ে নেয় হামলাকারীরা।
বিভিন্ন ভিডিও ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনামতে, হামলার নেতৃত্বে ছিলেন গণিত বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের আরফান সিফাত এবং একই শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ও শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসান। এ ছাড়া একই বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ইমতি, রিয়াজ ও নাইমসহ আরও ৪০-৫০ জন এই হামলায় অংশ নেন।
হামলায় গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আহত অন্য শিক্ষার্থীরা হলেন— ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের অমিও মন্ডল, রিপন মন্ডল, নাহিদ ইসলাম এবং ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের আব্দুল কাদের ইমন। এ ছাড়া লোকপ্রশাসন বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের তানজিল, সিএসই বিভাগের সিফাত, হিসাববিজ্ঞান বিভাগের মারুফ এবং ইংরেজি বিভাগের আহনাফ আহত হয়েছেন।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন সাংবাদিক আব্দুল কাদের জীবন বলেন, আমার ওপর ২০-৩০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে অতর্কিত হামলা করেছে। আমি এখন হাসপাতালে ভর্তি। যারা এই ন্যক্কারজনক হামলা চালিয়েছে, তাদের দ্রুত শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী আরফান সিফাত ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের ক্রীড়া সম্পাদক মো. হাসানের মোবাইলে একাধিকবার কল করা হলেও তারা ফোন রিসিভ করেননি।
এ বিষয়ে গণিত বিভাগের চেয়ারম্যান ড. বিজয় কৃষ্ণ সাহা বলেন, আমার কাছে এখনো লিখিত কোনো অভিযোগ আসেনি। গণিত বিভাগ ও গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ আজ এ বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর অফিসে বসবে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের ছাত্র উপদেষ্টা এবং সহকারী অধ্যাপক মো. ইমরান হোসেন বলেন, ঘটনা শোনার সাথে সাথেই আমি উপস্থিত হই। আমাদের বিভাগের ৮-৯ জন শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সার্বিক বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর মেহেদী হাসান সোহাগ বলেন, আমরা উভয় পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ আহ্বান করেছি। অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত কমিটি গঠনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...