Logo Logo

৬ কোটির বেশি টাকা নিয়ে দিশেহারা গ্রাহক, প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি।

মধ্যনগরে পল্লীবন্ধু উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে আমানত ফেরত না দেওয়ার অভিযোগ:


Splash Image

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি। সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা (এনজিও) পরিচয়ে পরিচালিত পল্লীবন্ধু উন্নয়ন সংস্থার বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকার আমানত ও সঞ্চয়ের অর্থ ফেরত না দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে।


বিজ্ঞাপন


দীর্ঘ কয়েক মাস ধরে অফিসে বারবার ঘুরেও নিজেদের কষ্টার্জিত টাকা ফেরত না পাওয়ায় চরম হতাশা, ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শত শত আমানতকারী। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, তাদের জমানো অর্থ আদৌ ফেরত পাওয়া যাবে কি না।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মধ্যনগর বাজারের মেসার্স ভাই ভাই হার্ডওয়্যারের দ্বিতীয় তলায় অবস্থিত পল্লীবন্ধু উন্নয়ন সংস্থার কার্যালয়ে প্রায় ১ হাজার ৮৫৭ জন সদস্য রয়েছেন। এর মধ্যে ৬১ জন আমানতকারী সদস্যের জমাকৃত আমানতের পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি ২৮ লাখ টাকা। অন্যদিকে, সংস্থাটি ১ হাজার ৭৯৬ জন সদস্যের মাঝে প্রায় ৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা ঋণ বিতরণ করেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কয়েক মাস ধরে গ্রাহকরা তাদের সঞ্চয় ও আমানতের টাকা উত্তোলনের জন্য অফিসে গেলেও সংস্থার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন। কখনও বলা হচ্ছে "আজ নয়, কাল আসেন", আবার কখনও বলা হচ্ছে "উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি আসেনি"। এভাবে দিনের পর দিন ঘুরিয়েও অনেক গ্রাহককে একটি টাকাও পরিশোধ করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা জানান, কেউ চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে, কেউ ব্যবসায় বিনিয়োগের জন্য, আবার কেউ পারিবারিক জরুরি প্রয়োজন কিংবা সন্তানদের লেখাপড়ার খরচ চালাতে নিজেদের জমাকৃত অর্থ তুলতে গিয়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। প্রয়োজনের সময় নিজেদের অর্থ না পেয়ে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে।

একজন ভুক্তভোগী বলেন,"আমরা বিশ্বাস করে এই প্রতিষ্ঠানে টাকা জমা রেখেছিলাম। এখন প্রয়োজনের সময় নিজের টাকাই তুলতে পারছি না। কয়েক মাস ধরে অফিসে ঘুরছি, কিন্তু প্রতিবারই আজ-কাল বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে।"

আরেক আমানতকারী বলেন,"অনেক কষ্ট করে টাকা সঞ্চয় করেছি মেয়ের লেখাপড়া ও সংসারের প্রয়োজনের জন্য। কিন্তু এখন অফিসে গেলে কর্মকর্তারা কোনো সন্তোষজনক উত্তর দেন না। আমরা খুবই দুশ্চিন্তায় আছি।"

এলাকাবাসীর অভিযোগ, টাকা জমা নেওয়ার সময় প্রতিষ্ঠানটির কর্মকর্তারা উচ্চ মুনাফা ও নিরাপদ সঞ্চয়ের নানা আশ্বাস দিলেও এখন টাকা ফেরতের বিষয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যাচ্ছেন। ফলে দিন দিন গ্রাহকদের উদ্বেগ আরও বাড়ছে।

এ বিষয়ে পল্লীবন্ধু উন্নয়ন সংস্থার মধ্যনগর শাখার ম্যানেজার জুয়েল খন্দকার অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, "উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আমাদের কথা হয়েছে। আগামী জুন থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে গ্রাহকদের আমানত ও সঞ্চয়ের টাকা পরিশোধের পরিকল্পনা রয়েছে। বর্তমানে অফিসে পর্যাপ্ত অর্থ না থাকায় গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী টাকা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।

তিনি আরও বলেন,"উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ টাকা সরবরাহ না করলে আমাদের পক্ষেও গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দেওয়া সম্ভব নয়। এভাবে পরিস্থিতি চলতে থাকলে আমার পক্ষে চাকরি করাও কঠিন হয়ে পড়বে।"

এদিকে, সংস্থার এমন পরিস্থিতিতে মধ্যনগরজুড়ে উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। অনেক আমানতকারী আশঙ্কা করছেন, সময়মতো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে তাদের কষ্টার্জিত অর্থ হারানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

ভুক্তভোগীরা দ্রুত প্রশাসন, জেলা সমবায় অধিদপ্তর, সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং সংশ্লিষ্ট নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক অবস্থা তদন্ত করে গ্রাহকদের জমাকৃত অর্থ দ্রুত ফেরত নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক, যাতে সাধারণ মানুষের কষ্টার্জিত অর্থ নিরাপদে ফেরত পাওয়া যায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...