বিজ্ঞাপন
আজ রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতি আয়োজিত নবীন আইনজীবীদের বরণ ও প্রশিক্ষণ কর্মশালা শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী স্পষ্ট করে বলেন, সরকার কারো প্রতি কোনো ধরনের অবিচার করতে চায় না। তবে যেসব অভিযোগ উঠেছে সেগুলোর সত্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা ও প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, সংবিধানের বিধান অনুসরণ করেই পরবর্তী যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালিত হবে এবং সরকার এক্ষেত্রে পুরোপুরি সাংবিধানিক প্রক্রিয়াই বজায় রাখবে।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি দাবি করেন, বিগত ১৬ বছরে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন ডলার বিদেশে পাচার করা হয়েছে, যা দেশের দুই থেকে তিনটি জাতীয় বাজেটের সমপরিমাণ। পাচার ও দুর্নীতির চিত্র তুলে ধরে তিনি আরও অভিযোগ করেন, খুলনায় পৌনে চার কিলোমিটার সড়ক নির্মাণেই বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ২৮০ কোটি টাকা এবং পিরোজপুরে এলজিইডির সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকার প্রকল্পে কেবল কাগজে-কলমে উন্নয়ন দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জুলাই অভ্যুত্থান-সংক্রান্ত মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সেগুলোকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমানে দেশে মিথ্যা মামলার প্রবণতা পূর্বের তুলনায় অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
শিক্ষানবিস ও নবীন আইনজীবীদের উদ্দেশ্যে আইনমন্ত্রী বলেন, আইন পেশায় রাতারাতি সফল হওয়ার কোনো সংক্ষিপ্ত বা সহজ পথ নেই। এ পেশায় স্থান করে নিতে হলে নিয়মিত অধ্যয়ন, দক্ষতা অর্জন, পেশাগত সততা ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার দৃঢ় মানসিকতা নিয়ে কাজ করে যেতে হবে। একই সাথে তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপসহীন অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান এবং স্পষ্টভাবে বলেন, দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি নিজ রাজনৈতিক দলের হলেও কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রায় ১ হাজার ৫৪ জন নবীন আইনজীবী অংশগ্রহণ করেন। এতে আইনজীবীদের পেশাগত নীতি-নৈতিকতা, দায়িত্ববোধ রক্ষা ও সামাজিক মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রাখার বিষয়টির ওপর বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করা হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...