বিজ্ঞাপন
পরে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয়। এদিকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ভুক্তভোগী শিশুটিকে উদ্ধার করে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে সদর উপজেলার মোল্লাপাড়া ইউনিয়নের সাদেকপুর (বুড়িস্থল) গ্রামে অভিযুক্তের নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। গ্রেপ্তার হওয়া সাইফুল হক ওই এলাকার সমরু মিয়া ও হাজারা বেগমের ছেলে। তিনি বর্তমানে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের নতুন হাছননগর এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত সাইফুল হক কৌশলে শিশুটিকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠে। একপর্যায়ে শিশুটির চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করেন এবং অভিযুক্তকে হাতেনাতে আটক করেন। পরে ক্ষুব্ধ জনতা তাকে গণধোলাই দেয়।
খবর পেয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ (পিপিএম)-এর নির্দেশে এসআই অর্জনের নেতৃত্বে পুলিশের একটি মোবাইল টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে। পুলিশ আহত অবস্থায় অভিযুক্তকে উদ্ধার করে নিজেদের হেফাজতে নেয় এবং ভুক্তভোগী শিশুটিকে তাৎক্ষণিকভাবে সুনামগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠায়।
গণধোলাইয়ে আহত সাইফুল হককে প্রথমে পুলিশি পাহারায় সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা শেষে তাকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রতন শেখ (পিপিএম) ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সংবাদ পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পুলিশের একটি মোবাইল টিম ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পুলিশ দ্রুত অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং ভুক্তভোগী শিশুটিকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করে।
তিনি আরও জানান, ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা বাদী হয়ে সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানায় মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা শিশু নির্যাতনের মতো জঘন্য অপরাধের দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করেছেন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ সংঘটনের সাহস কেউ না পায়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...