বিজ্ঞাপন
বুধবার (২৯ জুলাই) শেষ রাতে যশোর শহরের ঝুমঝুমপুর এলাকায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও কোতোয়ালি মডেল থানার যৌথ এক অভিযানে তাঁদের আটক করা হয়।
যশোর জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের পাঠানো আনুষ্ঠানিক অধিযাচন পত্রের (রিকুইজিশন) ভিত্তিতে ভোর পৌনে চারটার দিকে ডিবি ও থানা পুলিশের ৯টি সমন্বিত বিশেষ টিম ঝুমঝুমপুর এলাকায় আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে তাঁদের ধরাশায়ী করে।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে যে, দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যাওয়ার দূরভিসন্ধি নিয়েই ইমন ও তাঁর সহযোগীরা যশোরে সাময়িক আস্তানা গেড়েছিলেন। আটকের পরপরই আইনি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তাঁদের চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
গ্রেপ্তারকৃত অন্য তিন সহযোগী হলেন—ঢাকার শ্যামপুর থানার জুরাইন এলাকার আল ইসলাম আলিফ ওরফে তমাল (২৫), কুমিল্লার মনোহরগঞ্জের অধিবাসী ও ঢাকার মতিঝিল এলাকার বাসিন্দা মো. শামিম (২৮) এবং নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর অধিবাসী ও যাত্রাবাড়ী গোলাপবাগ এলাকার বাসিন্দা মো. সাফায়েত হোসেন (২৮)।
চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ নিশ্চিত করেছে, মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর গ্রামের মৃত মো. মুসার ছেলে। তিনি বিদেশে পলাতক চট্টগ্রামের বিতর্কিত সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’ গ্রুপের অন্যতম প্রধান অস্ত্রধারী ও চিহ্নিত শুটার হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ তথ্য মতে, ২০২৫ সালের মার্চ মাসে বাকলিয়ার আলোচিত জোড়া খুন এবং মে মাসে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাসহ অন্তত ১৫টি গুরুতর অপরাধমূলক মামলার প্রধান আসামি এই ডেভিড ইমন। পুলিশের কাছে থাকা নথিপত্র অনুযায়ী, তাঁর অনুসারী সন্ত্রাসী বাহিনীতে অন্তত ৫০ জন শুটার সক্রিয় রয়েছে এবং ইমন নিজে ১৫ থেকে ২০ ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র পরিচালনায় অত্যন্ত পারদর্শী।
ইমন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি, প্রাণনাশের হুমকি এবং সশস্ত্র হামলার অগণিত অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে অন্যতম সন্ত্রাসী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ‘ছোট সাজ্জাদ’ কারাগারে বন্দি থাকায় ইমন এবং তাঁর অপর সহযোগী মোহাম্মদ রায়হান যৌথভাবে চট্টগ্রামে আন্ডারওয়ার্ল্ডের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিলেন।
যশোরে ইমনের এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রামের একটি দুর্ধর্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর বড় ধরনের অপরাধমূলক নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...