বিজ্ঞাপন
উপজেলার বাশকান্দি ইউনিয়নে অবস্থিত এই বিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক এক ঝড়ে একটি চাম্বুল গাছ ভেঙে পড়ে। নিয়ম অনুযায়ী সরকারি অনুমতির ভিত্তিতে মোট ২ হাজার ২০০ টাকা বাজারমূল্য ধরে ওই চাম্বুল গাছটি নিলামে বিক্রির সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা শামিমা নাসরিনের অগোচরে বা প্রশ্রয়ে সেই একটি চাম্বুল গাছের পাশাপাশি আরও দুটি মূল্যবান মেহগনি গাছ কেটে ফেলা হয়।
অনিয়মের বিষয়টি ঢাকতে কাটা গাছের অবশিষ্ট অংশ অর্থাৎ গুঁড়ি মাটি দিয়ে ঢেকে ফেলা হয়েছে, যেন সেখানে আগে কোনো গাছ ছিল বলে মনে না হয়। প্রথম দিকে সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের মুখে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা দুটি গাছ কাটার কথা বললেও কোনো সরকারি অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি। পরবর্তীতে নানা অসংলগ্ন বক্তব্য দেওয়ার পর অবশেষে তিনটি গাছ কাটার বিষয়টি স্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে শিবচর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) সৈয়্যেদাতুন নেছা রূপা বলেন, "সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করে বিজ্ঞপ্তি ও টেন্ডারের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের কেবল ১টি চাম্বুল গাছ কাটার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর বাইরে অতিরিক্ত কোনো গাছ কাটার অনুমতি শিক্ষা অফিস থেকে দেওয়া হয়নি।"
ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। রাসেল আহমেদ নামের এক প্রাক্তন শিক্ষার্থী জানান, স্বজনপ্রীতি ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবে অনেকে মুখ খুলতে সাহস পান না। এছাড়া শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা শ্রেণি কক্ষে পাঠদানে মনোযোগ না দিয়ে মোবাইল ব্যবহারে ব্যস্ত থাকেন এবং ম্যানেজিং কমিটি গঠনেও স্বজনপ্রীতি করা হয়েছে।
শিক্ষাঙ্গনে এ ধরনের অনিয়ম ও সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ চেষ্টার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার জোরালো দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...