বিজ্ঞাপন
স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল সোহাগই নন, ওই একই পাচারকারী চক্রের হাতে লিবিয়ায় এখনো অন্তত আরও ১১ জন বাংলাদেশি যুবক জিম্মি অবস্থায় অমানুষিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন।
নিহত সোহাগ মুন্সী রাজৈর উপজেলার মজুমদারকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী মুন্সীর ছেলে। পেশায় ঢাকায় রংমিস্ত্রির কাজ করা সোহাগ ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় প্রতিবেশী দালাল ময়না আক্তার (স্বামী: মুকুম শেখ, গ্রাম: মজুমদারকান্দি) এবং মানবপাচারকারী জুলহাস সরদারের (গ্রাম: শ্রীরামপুর, ইউনিয়ন: হোসেনপুর) প্রলোভনে পড়েন। প্রাথমিক চুক্তি অনুযায়ী ২২ লাখ টাকা পরিশোধ করে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশ ছাড়েন তিনি। তবে তাঁকে ইতালির পরিবর্তে প্রথমে সৌদি আরব এবং পরে লিবিয়ার ত্রিপোলিতে নিয়ে বন্দী করে অমানুষিক শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। নির্যাতনের ভিডিও স্বজনদের পাঠিয়ে কয়েক দফায় আরও ৩৮ লাখ টাকা আদায় করে দালাল চক্র। পরবর্তীতে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২ লাখ টাকা নিলেও, গত ২৩ জুলাই নতুন করে আরও ২৭ লাখ টাকা দাবি করে পাচারকারীরা। ২৪ জুলাই সকাল ৮টার নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে টাকা দিতে না পারায় লিবিয়ার মাফিয়ারা সোহাগকে নির্মমভাবে গুলি করে হত্যা করে। গত ২৯ জুলাই মৃত্যুর মর্মান্তিক বার্তা পৌঁছালে নিহতের পরিবার ও পুরো এলাকায় চরম শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনায় নিহত সোহাগের মা শাহিনুর বেগম বাদী হয়ে রাজৈর থানায় একটি মানবপাচার মামলা দায়ের করেছেন। মামলার সূত্র ধরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্ত দালাল জুলহাস সরদারকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে মাদারীপুরের সহকারী পুলিশ সুপার বিমল চন্দ্র বর্মন জানান, রাজৈর থানায় এজাহার দায়েরের পর প্রধান আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে। তিনি আরও জানান, চক্রের মূল হোতাদের বড় একটি অংশ বিদেশে অবস্থান করায় এবং দেশে থাকা সহযোগীরা ঘন ঘন অবস্থান পরিবর্তন করায় বাকিদের দ্রুত গ্রেপ্তারে কিছুটা জটিলতা তৈরি হচ্ছে; তবে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
স্বজন ও এলাকাবাসী নিহত সোহাগের মরদেহ দ্রুত বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার প্রশাসনিক উদ্যোগের পাশাপাশি এই ঘটনার সাথে জড়িত মানবপাচারকারী দালাল ও আন্তর্জাতিক মাফিয়া চক্রের সর্বোচ্চ শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...