বিজ্ঞাপন
সোয়াত জেলার পুলিশ কর্মকর্তা ওমর খান জানান, থানার প্রবেশপথে নিরাপত্তা তল্লাশির জন্য পুলিশ সদস্যরা হামলাকারীকে থামানোর চেষ্টা করলে সে নিজেকে বিস্ফোরণের মাধ্যমে উড়িয়ে দেয়। ঘটনাটি ঘটে পার্শ্ববর্তী এলাকায় সহিংসতার প্রতিবাদে আয়োজিত একটি বিক্ষোভ সমাবেশ শেষ হওয়ার ঠিক মুহূর্তে, ফলে হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
সোয়াত পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ফিদা হোসেন জানান, হামলায় আহত ২২ জনকে বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এখনো কোনো সংগঠন এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
স্থানীয়দের ওই বিক্ষোভের মূল উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তান তালেবান (টিটিপি) পুনরায় সংগঠিত হওয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো এবং সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে সরকারের আরও কার্যকর পদক্ষেপের দাবি তোলা। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষের ওপর কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরোপ করা হলেও সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্যরা নির্বিঘ্নে পাহাড়ি এলাকায় চলাফেরা করছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ডন-এর বরাতে এক বক্তা বলেন, “আমরা আর এক প্রজন্ম বিধবা ও এতিম দেখতে চাই না।”
হামলার পর পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারী, প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী পৃথক বিবৃতিতে ঘটনার তীব্র নিন্দা জানান। তারা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেন এবং সন্ত্রাসবাদ সম্পূর্ণ নির্মূল না হওয়া পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী পুরো এলাকা ঘিরে ফেলে এবং হামলার কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত শুরু করে। সাম্প্রতিক সময়ে খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশে টিটিপির হামলাকে কেন্দ্র করে সহিংসতা উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে। পাকিস্তান ইনস্টিটিউট ফর কনফ্লিক্ট অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে এ অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলায় ১৫৪ জন নিহত হয়েছেন।
এদিকে পাকিস্তান সরকার এসব হামলার জন্য আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে দায়ী করে আসছে। তবে কাবুল বরাবরের মতোই এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
সূত্র: আল জাজিরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
সর্বশেষ
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...