Logo Logo

ববিতে শিবিরের অদম্য জুলাই র‍্যালিতে ছাত্রদলের হামলা, আহত ২০


Splash Image

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ইসলামী ছাত্রশিবিরের ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচিতে বহিরাগতদের অংশগ্রহণের অভিযোগ তুলে হামলার ঘটনা ঘটেছে। পরবর্তীতে এ নিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির নেতাকর্মীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। উক্ত সংঘর্ষে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সভাপতি মনিরুল ইসলামসহ ১২ জন এবং ছাত্রদলের ৮ জনসহ উভয় পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (৫ আগস্ট) সকাল ৯টা ৪০ মিনিটের দিকে ‘অদম্য জুলাই’ কর্মসূচির র‍্যালি শেষে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি গেট দিয়ে বেরিয়ে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কে পৌঁছালে এ ঘটনার সূত্রপাত হয়।

প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, শিবিরের অদম্য বিজয় র‍্যালিটি মহাসড়কে ওঠার পরপরই ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মী মিছিলে বহিরাগতদের উপস্থিতি রয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন এবং বাধা দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে আগে থেকেই লাঠিসোটা নিয়ে অবস্থানরত ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা শিবিরের মিছিলে হামলা চালালে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। সংঘাতের খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও প্রক্টরিয়াল বডি দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষকে নিরস্ত করার চেষ্টা চালান।

সংঘর্ষের ঘটনায় আহতদের বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। চিকিৎসাধীন শিবিরের আহত নেতাকর্মীরা হলেন—বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মনিরুল ইসলাম, সাব্বির হোসেন (বাংলা), আলামিন, হাফিজ সিদ্দিক, হেলাল আহমেদ, আবদুল্লাহি বাকী (ইংরেজি), আল মামুন সিয়াম, তায়েফ ও শারাফাত সিফাত। এছাড়া আরও ৫-৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে চিকিৎসাধীন ছাত্রদলের আহত ৮ নেতাকর্মী হলেন—ইমরান, সিফাত, হৃদয়, জাহিদ, তরিকুল, প্রান্ত, হেনা ও আবদুর রহিমসহ আরও ৩-৪ জন।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া ইসলাম বাবু বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি উপলক্ষে আমরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলাম। আমাদের র‍্যালি ভিসি গেটে পৌঁছামাত্রই ছাত্রদলের সন্ত্রাসীরা অন্যায়ভাবে বর্বরোচিত হামলা চালায়। তাদের হামলায় আমাদের সভাপতিসহ প্রায় ১৫ জন আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি আছেন। প্রক্টর উপস্থিত থেকে থামানোর চেষ্টা করলেও হামলাকারীরা ক্ষান্ত হয়নি। আমরা উপাচার্যের কাছে এই সন্ত্রাসী হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বিচার দাবি করেছি।”

পাল্টা অভিযোগ করে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় ও রাষ্ট্রকে অস্থিতিশীল করতে বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাডারা ক্যাডার কায়দায় ক্যাম্পাসে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করেছিল শিবির। সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্রদল তাদের প্রতিহত ও ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছে। কোনো গুপ্ত বা সন্ত্রাসী সংগঠনের স্থান বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে হবে না।”

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তবে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন দক্ষিণের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) বেলাল হোসাইন জানান, ছাত্রদল ও শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিবেশ স্বাভাবিক রয়েছে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...