বিজ্ঞাপন
বুধবার (৫ আগস্ট) কাতারভিত্তিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ-তে (KCNA) প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানান দেশটির প্রভাবশালী নেতা কিম জং উনের বোন কিম ইয়ো জং। বিবৃতিতে তিনি জাপানের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিযোগ করেন যে, দেশটির সামরিক বাহিনী নিজেদের ঐতিহ্যগত প্রতিরক্ষামূলক অবস্থান থেকে সরে এসে কৌশলগত আগাম হামলা চালানোর সক্ষমতা অর্জনের দিকে দ্রুত এগিয়ে যাচ্ছে।
প্রশান্ত মহাসাগরে জাপানি এজিস ডেস্ট্রয়ার ‘চোকাই’ থেকে চালানো সাম্প্রতিক টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, অন্যান্য আধুনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণ এবং গত মে মাসে ফিলিপাইনে মার্কিন নেতৃত্বাধীন ত্রিদেশীয় যৌথ সামরিক মহড়ায় জাপানের সক্রিয় অংশগ্রহণের বিষয়গুলো উল্লেখ করেন কিম ইয়ো জং। তিনি সতর্ক করে বলেন, উত্তর কোরিয়া এমনভাবে এই অপতৎপরতার জবাব দেবে, যাতে জাপান খুব ভালোভাবেই অনুভব করতে পারে যে তাদের আঞ্চলিক নিরাপত্তা আরও বড় ধরনের চরম ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
টোকিওর সাম্প্রতিক সামরিক পদক্ষেপের প্রতি অত্যন্ত কঠোর বার্তা দিয়ে তিনি বলেন, “আমাদের ওদের (জাপানকে) এই সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত করতে হবে।”
কিম ইয়ো জং আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র জাপানকে এই প্রাণঘাতী টমাহক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে, যুদ্ধজাহাজে তা পরিচালনার উপযোগী প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এনে দিয়েছে এবং অস্ত্র পরীক্ষায় সরাসরি সহায়তা দিয়ে জাপানের সামরিক শক্তি পুনর্বাসনে পেছনে থেকে ইন্ধন যোগাচ্ছে। জাপানের এমন বিপজ্জনক সামরিক আগ্রাসনের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি হাত রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
যুক্তরাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের ত্রিপক্ষীয় সামরিক ও নিরাপত্তা সহযোগিতার ধারাবাহিক সমালোচনা করে আসছে পিয়ংইয়ং। সেই ধারাবাহিকতায় কিম ইয়ো জংয়ের এই মন্তব্য নতুন মাত্রা যোগ করল।
উল্লেখ্য, গত জুলাই মাস থেকে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএ অন্তত ছয়টি সম্পাদকীয় ও বিশেষ মন্তব্য প্রকাশ করেছে। এসব প্রতিবেদনে ত্রিপক্ষীয় যৌথ সামরিক কর্মকাণ্ডকে পুরো অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক হুমকি এবং কোরীয় উপদ্বীপে সামরিক উত্তেজনা বৃদ্ধি করার মূল কারণ হিসেবে তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, উত্তর কোরিয়া নিজেদের পারমাণবিক ও আধুনিক অস্ত্র উন্নয়ন কর্মসূচিকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে যুক্তিযুক্ত হিসেবে তুলে ধরতেই টোকিওর সামরিক আধুনিকীকরণকে সরাসরি নিরাপত্তা হুমকি হিসেবে উপস্থাপন করার কৌশল নিয়েছে।
সিউলের ‘উত্তর কোরীয় অধ্যয়ন বিশ্ববিদ্যালয়’-এর অধ্যাপক ইয়াং মু জিন জানান, কিম ইয়ো জংয়ের এই মন্তব্যের মূল উদ্দেশ্য হলো জাপানের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলোকে উত্তর কোরিয়াকে ঘিরে মার্কিন প্রক্সি সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধির বৃহত্তর প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ফুটিয়ে তোলা।
অন্যদিকে কিয়ংনাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দূরপ্রাচ্য অধ্যয়ন ইনস্টিটিউট’-এর অধ্যাপক লিম ইউল-চুল বিশ্লেষণ করে বলেন, উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে আসা এই ধরনের বার্তা মূলত ভবিষ্যতে নতুন কোনো দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা অথবা সমুদ্রের তলদেশে আধুনিক আঘাত হানার সক্ষমতা প্রদর্শনের মতো সম্ভাব্য বড় সামরিক অভিযানের পূর্বপ্রস্তুতি ও অজুহাত তৈরি করতে পারে।
সূত্র : আল জাজিরা।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...