বিজ্ঞাপন
বুধবার (৫ আগস্ট) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বুধবার মধ্যরাতের পর থেকে রাজধানী কিয়েভে দফায় দফায় ভয়াবহ এ হামলা শুরু হয়। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো সার্বিক পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে জানান, রাশিয়া আবারও ইউক্রেনের ওপর ব্যাপক ও জোরালো আক্রমণ চালাচ্ছে।
কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের তথ্যমতে, রাশিয়ার ছোঁড়া ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে রাজধানীর একাধিক আবাসিক ভবন এবং বাণিজ্যিক গুদাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনার সময় কিয়েভজুড়ে এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে বিমান হামলার তীব্র সতর্কসংকেত (সাইরেন) বাজানো হয়।
একইসঙ্গে রাশিয়ার ক্রমাগত ব্যালিস্টিক আক্রমণ কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার লক্ষ্যে কিয়েভ প্রশাসন মিত্র দেশগুলোর কাছে জরুরি ভিত্তিতে অতিরিক্ত মার্কিন-নির্মিত ‘প্যাট্রিয়ট’ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আকুল আবেদন জানিয়েছে।
এদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা কিয়েভ এবং তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ও রসদ সরবরাহকেন্দ্রগুলোতে নিখুঁত হামলা চালিয়েছে। এসব কেন্দ্রে ইউক্রেনীয় বাহিনীর বিভিন্ন মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম মজুতের পাশাপাশি চালকবিহীন আকাশযান (ড্রোন) উৎপাদন ও বিতরণের কাজ পরিচালিত হতো।
রুশ মন্ত্রণালয় আরও জানায়, কৃষ্ণ সাগর তীরবর্তী কৌশলগত ওডেসা বন্দরের কাছে ইউক্রেনের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনকারী তিনটি বিদেশি পণ্যবাহী জাহাজেও সফল হামলা চালানো হয়েছে।
কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো জানান, শহরের কেন্দ্রস্থলে হামলার ব্যাপকতার কারণে ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে বেশ কিছু মানুষ এখনো আটকা পড়ে থাকতে পারেন। নিজস্ব টেলিগ্রাম চ্যানেলে তিনি নিশ্চিত করেন, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতদের মধ্যে চারজনের অবস্থা অত্যন্ত সংকটজনক।
ইউক্রেনীয় সামরিক প্রশাসনের অভিযোগ, রাশিয়া উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বেসামরিক নাগরিক এবং সাধারণ অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে এ হামলা পরিচালনা করছে।
হামলার ভয়াবহতা তুলে ধরে ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানায়, তারা এবার কোনো ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে পারেনি। রাশিয়া রাতভর মোট ২৪টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪টি জাহাজ-বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। তবে ইউক্রেনীয় আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার উৎক্ষেপণ করা ১১৫টি ড্রোনের মধ্যে ৯৮টি সফলভাবে ধ্বংস করতে সক্ষম হয়।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে কিয়েভকে লক্ষ্য করে রাশিয়া যেমন আক্রমণ জোরদার করেছে, ঠিক তেমনি জবাবে ইউক্রেনও রাশিয়ার বিভিন্ন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও সামরিক সুবিধাজনক অবকাঠামোতে ড্রোন আক্রমণ বৃদ্ধি করেছে।
রাশিয়া নিয়ন্ত্রিত তুলা অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি মিলিয়েভ জানান, গত রাতে তাদের অঞ্চলে রাশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ‘ওয়াইল্ডবেরিজ’-এর একটি বিশাল গুদামে ইউক্রেনীয় ড্রোন আছড়ে পড়ে অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। এতে অন্তত একজন আহত হলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে এবং নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো গুদাম খালি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইউক্রেন রাশিয়া ও তার মালিকানাধীন ওয়াইল্ডবেরিজের পরিচালিত বিভিন্ন অবকাঠামোতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে। এর আগে মঙ্গলবার সকালে মস্কো অঞ্চলের একটি গুদামে ইউক্রেনীয় হামলায় ৫ জন নিহত ও ১০ জন আহত হন। তাছাড়া এর আগের দিন রুশ কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, দক্ষিণাঞ্চলীয় ক্রাসনোদার অঞ্চলের একটি ব্যস্ত সৈকতে ড্রোন হামলায় ৭ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত এবং অন্তত ৫৮ জন আহত হন।
তবে উভয় দেশই একে অপরের বেসামরিক সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার অভিযোগ বরাবরের মতোই অস্বীকার করে আসছে।
সূত্র : বিবিসি।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...