বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (৭ আগস্ট) বিকেলে আসামিদের নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে বিজ্ঞ বিচারক তাদের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। এর আগে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দিবাগত গভীর রাতে জাতীয় জরুরি সেবা '৯৯৯'-এ আসা একটি গোপন কলকে কেন্দ্র করে রাবেয়া হাসপাতালের পাশের ওই ভবনে বোরো অভিযান চালায় পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন কুমিল্লার হোমনা উপজেলার বাসিন্দা মো. সালাউদ্দিন বিপ্লব, তার স্ত্রী পারভিন আক্তার, তাদের দুই ছেলে ফাহাদ হাসান ও আরাফাত ইয়াসিন ফাহিম এবং সহযোগী আব্দুর রহিম। তারা দীর্ঘদিন ধরে নোয়াখালীতে বাসা ভাড়া নিয়ে এই অপকর্ম পরিচালনা করে আসছিলেন।
ঘটনার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, উদ্ধার হওয়া তরুণীদের মধ্যে একজন বিউটি পার্লারে চাকরির আশ্বাসে গত ২ আগস্ট চৌমুহনীতে আসেন। সেখানে আসার পর সালাউদ্দিন বিপ্লব ও তার চক্রের সদস্যরা তাকে একটি বাসায় আটকে রেখে মোবাইল ফোন কেড়ে নেয়। পরবর্তীতে চাবুক ও অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে জোরপূর্বক যৌনকাজে বাধ্য করা হয় এবং তা ভিডিও ধারণ করা হয়। ওই তরুণী কৌশলে ৯৯৯-এ ফোন করে পুলিশের সাহায্য চাইলে বেগমগঞ্জ মডেল থানা পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে। আস্তানা থেকে ভিডিও ধারণের আধুনিক ক্যামেরা, ৬টি স্মার্টফোন, নির্যাতনের কাজে ব্যবহৃত ১টি চাবুক, ছুরি, কাঁচি এবং নগদ ১ লাখ ৯৮ হাজার টাকা জব্দ করা হয়। ভুক্তভোগী এক তরুণী বাদী হয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানায় ৬ জনকে অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেছেন।
সাইবার অপরাধ বিশেষজ্ঞ ও স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ও বিভিন্ন বিদেশি লাইভ স্ট্রিমিং অ্যাপসকে কেন্দ্র করে দেশে এমন পর্নোগ্রাফিক চক্রের তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সহজ উপার্জনের লোভে এসব চক্র প্রত্যন্ত অঞ্চলের সরল তরুণীদের ফাঁদে ফেলছে। এ বিষয়ে বেগমগঞ্জ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. হাবীবুর রহমান জানান, আসামিদের আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। উদ্ধার হওয়া চার তরুণীকে প্রয়োজনীয় আইনি ও চিকিৎসাসংক্রান্ত প্রক্রিয়া শেষে স্ব-স্ব পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করা হবে। এই চক্রের সাথে আরও কেউ জড়িত রয়েছে কিনা তা খতিয়ে দেখতে পুলিশের গোয়েন্দা নজরদারি ও তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...