বিজ্ঞাপন
আজ শনিবার (১৫ আগস্ট) বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের বিচারিক আদালতের মাধ্যমে নোয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে গত শুক্রবার ভোর রাতের দিকে সদর উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের গোপাই গ্রামের আলী আজম মহুরী বাড়িতে মর্মান্তিক এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। নিহত লাইলি বেগম ওই বাড়ির গ্রাম পুলিশ আলমগীর হোসেনের স্ত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, লাইলি বেগম ও তাঁর ছেলে সৌরভ একই বসতঘরের আলাদা কক্ষে থাকতেন। গৃহকর্তা আলমগীর হোসেন গ্রাম পুলিশের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি বাড়ি থেকে প্রায় ১৫০ গজ দূরে একটি চায়ের দোকান পরিচালনা করেন এবং রাতে সেখানেই ঘুমাতেন। প্রায় ৮-১০ দিন আগে বাড়ির সামনের পুকুরঘাটে পড়ে গিয়ে লাইলি বেগমের বাম হাত ভেঙে যায়। এতে করে তিনি স্বাভাবিক কাজকর্ম করতে পারছিলেন না। তাই পরিবারের খাবারের ব্যবস্থা পাশের ঘরে থাকা লাইলির সৎ শাশুড়ি তফুরা বেগমের ঘরে করা হচ্ছিল। গত বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে লাইলি বেগম তফুরা বেগমের ঘরে রাতের খাবার খেয়ে নিজ কক্ষে চলে যান। পরবর্তীতে রাত ১২টার দিকে আলমগীর হোসেনও তফুরা বেগমের ঘরে খাবার খেয়ে চায়ের দোকানে চলে যান। এরপর লাইলি ও তাঁর ছেলে নিজ নিজ কক্ষে ঘুমিয়ে পড়েন।
শুক্রবার ভোর ৬টার দিকে সৌরভ ঘুম থেকে উঠে তাঁর মাকে শয়নকক্ষের মেঝেতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে বিষয়টি তিনি দাদী তফুরা বেগমকে জানালে তফুরা বেগম ঘরে গিয়ে লাইলির নিথর দেহ দেখে চিৎকার শুরু করেন এবং আশপাশের লোকজন ছুটে আসেন। এরপর সৌরভ চায়ের দোকানে গিয়ে বাবা আলমগীর হোসেনকে ঘটনাটি জানান। বাড়িতে এসে আলমগীর হোসেন স্ত্রীর গলা কাটা মরদেহ দেখতে পান। লাইলি বেগমের গলার ডান পাশে ধারালো অস্ত্রের গুরুতর জখম ছিল এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তাঁর মৃত্যু হয়। এছাড়া তাঁর বাম কাঁধের সামনের অংশ ও বাম হাঁটুতে ছেলা জখমের চিহ্ন পাওয়া গেছে।
খবর পেয়ে সুধারাম থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুমন বণিক সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। পরবর্তীতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। একই সাথে পিবিআই, সিআইডি ও জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)-র সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সুধারাম থানার এসআই সুমন বণিক জানান, এই ঘটনায় প্রথমে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের ছেলে সৌরভ হোসেন ও শাশুড়ি তফুরা বেগমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে, নিহত নারীর ছেলে মাদকাসক্ত ও মানসিকভাবে বিকারগ্রস্ত। অন্যদিকে, শাশুড়ি তফুরা বেগমকে হত্যাকাণ্ডের আলামত লোপাটের চেষ্টা করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে হত্যাকাণ্ডের মূল কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, যা তদন্ত সাপেক্ষে উদঘাটন করা হবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...