Logo Logo

ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোয় নিজের ১৪ দিনের নবজাতককে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যা করল মা


Splash Image

সন্তানের কান্নাকাটি ও ঘুমের ব্যাঘাত ঘটানোর অভিযোগে মাত্র ১৪ দিন বয়সী নিষ্পাপ নবজাতক ছেলেকে বৃষ্টির পানি রাখার প্লাস্টিকের ড্রামে ফেলে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে জন্মদাত্রী এক মায়ের বিরুদ্ধে।


বিজ্ঞাপন


নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় সংঘটিত এই রোমহর্ষক ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মা ফাতেমা বেগমকে (১৯) জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়ির সৌরভ হোসেনের বসতঘরে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত নবজাতক ওই বাড়ির সৌরভ হোসেনের ১৪ দিন বয়সী সন্তান। অভিযুক্ত ফাতেমা বেগম পার্শ্ববর্তী নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে সৌরভের সঙ্গে ফাতেমার পারিবারিকভাবে বিয়ে সম্পন্ন হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই এই দম্পতির দাম্পত্য জীবনে তীব্র কলহ ও অশান্তি চলছিল। এর মধ্যেই তাদের ঘরে জন্ম নেয় এক পুত্রসন্তান। সোমবার সন্ধ্যার পর থেকেই হঠাৎ নবজাতককে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

পরিবারের সদস্যরা শিশুটির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে মা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি শুরুতেই বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিতে থাকেন। প্রথমে তিনি দাবি করেন, পেছন থেকে কেউ তাঁর মাথায় আঘাত করে সন্তানকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর তিনি আবার দাবি করেন, তাঁর সন্তানকে ‘জিনে’ নিয়ে গেছে। এমন অসংলগ্ন ও এলোমেলো তথ্যে পরিবারের সদস্যদের মনে গভীর সন্দেহের সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে স্বজনরা ঘরে তল্লাশি চালিয়ে রাত ১০টার দিকে ঘরের ভেতর রাখা বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রামের ভেতর থেকে নবজাতকের নিথর মরদেহ উদ্ধার করেন।

খবর পেয়ে বেগমগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। একই সঙ্গে মা ফাতেমা বেগমকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফাতেমা বেগম তাঁর নবজাতক সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে ডুবিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, সন্তানটি অতিরিক্ত কান্নাকাটি করত এবং তাঁকে ঘুমাতে দিত না। টানা কান্নাকাটি ও নিজের ঘুমের ব্যাঘাত সহ্য করতে না পেরেই ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি সন্তানকে বৃষ্টির পানির ড্রামে ফেলে দেন।

বেগমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামসুজ্জামান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, নবজাতক সন্তানকে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক স্বীকারোক্তি মিললেও ঘটনাটির পেছনে অন্য কোনো পারিবারিক বিরোধ, মানসিক সমস্যা কিংবা প্ররোচনা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুত পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...