Logo Logo

ডিবেটিং সোসাইটির নির্বাচন ও ফেসবুক পোস্ট ঘিরে গোবিপ্রবিতে দফায় দফায় সংঘর্ষ


Splash Image

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (গোবিপ্রবি) ডিবেটিং সোসাইটির নির্বাচন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টকে কেন্দ্র করে দফায় দফায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমনের নেতৃত্বে শিক্ষার্থীদের ওপর কয়েক দফা হামলা চালানো হয় বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী চলা এই তাণ্ডবে সাধারণ শিক্ষার্থীসহ পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকরাও হামলার শিকার হয়েছেন। এতে পুরো ক্যাম্পাসজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়।


বিজ্ঞাপন


ক্যাম্পাস সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিরোধের সূত্রপাত হয় ডিবেটিং সোসাইটির নির্বাচনকে ঘিরে। গত ১৯ আগস্ট ফার্মেসি বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী স্বাগত মণ্ডলকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে ডেকে নিয়ে বেধড়ক মারধর করার অভিযোগ ওঠে আইন বিভাগের শিক্ষার্থী ইমনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২০ আগস্ট সকালে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী প্রক্টর দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এরপরই ডিবেটিং সোসাইটির সদ্য বিদায়ী সভাপতির অনুসারী এক শিক্ষার্থী ইমনের বিভাগ নিয়ে ফেসবুকে একটি পোস্ট করলে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এর জেরে ২০ আগস্ট আইন বিভাগের ইমনের নেতৃত্বে একদল শিক্ষার্থী শহীদ তিতুমীর হলে গিয়ে ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের খুঁজতে থাকে এবং উসকানিমূলক ও অশ্লীল স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে ইতিহাস বিভাগসহ হলের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রতিরোধ গড়ে তুললে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিউ মার্কেট, প্রধান ফটক, শহীদ হাদী চত্বর ও প্রশাসনিক ভবন এলাকায় টানা চার ঘণ্টা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া চলে। প্রক্টরিয়াল বডির সদস্য ও শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েও দীর্ঘ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন।

পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে ভিডিও ধারণের সময় গোবিপ্রবি প্রেসক্লাবের সভাপতি সজিবুর রহমান ও সাংবাদিক সমিতির দপ্তর সম্পাদক মাহমুদুল হাসানসহ কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর ওপর চড়াও হয়ে হামলা চালানো হয়। হামলার শিকার সাংবাদিক সজিবুর রহমান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর এমন বর্বর হামলা চূড়ান্তভাবে হতাশাজনক। প্রশাসন দ্রুত বিচার না করলে আমরা কঠোর কর্মসূচির ডাক দেব।"

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী স্বাগত মণ্ডল অর্ঘ্য জানান, "অন্যায়ভাবে হামলার শিকার হওয়ার পরও আমি চুপ থাকব না। যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। বিশ্ববিদ্যালয় কারও ব্যক্তিগত আধিপত্যের জায়গা নয়। আমি প্রতিশোধ চাই না, জড়িতদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা চাই।"

অভিযুক্ত ইমন হোসেনের বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে একক আধিপত্য ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল শহীদ তিতুমীর হলে তৎকালীন প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি কে এম ইয়ামিনুল হাসান আলিফের ওপর হামলাসহ বিগত এক বছরে তার বিরুদ্ধে অন্তত চারটি মব ও হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ইমন মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর আহসান সৌরভ বলেন, "ডিবেটিং সোসাইটির নির্বাচন ও ফেসবুক পোস্ট নিয়ে আইন ও ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম উত্তেজনা তৈরি হয়। আমরা পরিস্থিতি শান্ত করার সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। ঘটনাটি তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়; সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...