বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারকৃত দুই ভাড়াটে খুনি হলেন মো. আলমগীর হোসেন ও মো. রুবেল শেখ। তারা দুজনই গোয়ালন্দঘাট থানার হোসেন মন্ডলপাড়ার বাসিন্দা।
হত্যাকাণ্ডের এই ঘটনায় নিহতের পিতা মো. খালেক শেখ (৭০) বাদী হয়ে গোয়ালন্দঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর সোমবার (২৩ আগস্ট) গোয়ালন্দঘাট থানা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) শাখার একটি যৌথ চৌকস দল ঘটনার তদন্তে নামে। তদন্তপ্রক্রিয়ায় প্রাপ্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে নিহতের ছোট ভাই বারেক শেখকে আটক করে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে ছোট ভাই বারেক শেখ প্রকাশ করেন যে, পারিবারিক মনোমালিন্য এবং জীবদ্দশায় তাদের নিজ মাকে ফারুক শেখ কর্তৃক মারধর করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনা করা হয়। পাশাপাশি ভিকটিমের অর্থ-সম্পদ আত্মসাৎ করার লোভ থেকেও এই নৃশংস অপরাধ সংঘটিত করেন তিনি।
পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বারেক শেখ তাঁর দৌলতদিয়া এলাকার দুই সহকর্মী আলমগীর ও রুবেলকে মাত্র তিন হাজার টাকার বিনিময়ে ভাড়াটে খুনি হিসেবে সম্পৃক্ত করেন।
পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২২ আগস্ট দুপুরে আলমগীর ও রুবেল বারেক শেখের বাড়িতে পৌঁছালে তাদের হাতে দুটি ধারালো দা তুলে দিয়ে বারেক কৌশলে অন্যত্র সরে যান। পরবর্তীতে ভাড়াটে খুনিরা ঘরে প্রবেশ করে ঘুমন্ত ফারুক শেখকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে পালিয়ে যায়।
তদন্তকারী দলের অভিযানে প্রধান পরিকল্পনাকারী বারেক শেখের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গোয়ালন্দঘাট থানাধীন ৬ নম্বর ওয়ার্ডের দৌলতদিয়ার হোসেন মন্ডলপাড়ার নিজ নিজ বসতবাড়ি থেকে ভাড়াটে খুনি মো. আলমগীর হোসেন ও মো. রুবেল শেখকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারকৃত রুবেল ও আলমগীরের দেওয়া স্বীকারোক্তি অনুযায়ী দুর্ঘটনাস্থলের নিকটস্থ ময়লার স্তূপ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা দুটি ধারালো দা উদ্ধার করা হয়। অভিযানকালে পুলিশ দুটি রক্তমাখা ধারালো দা, রক্তমাখা গেঞ্জি, প্যান্ট, ব্যবহৃত মোবাইল ফোন এবং মাস্ক জব্দ করে আলামত হিসেবে তালিকাভুক্ত করে।
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃত তিন আসামিই বিজ্ঞ আদালতে উপস্থিত হয়ে স্বেচ্ছায় নিজেদের দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করেছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...