ছবি : সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) বিকেল ৫টায় ঝালকাঠি প্রেসক্লাব মিলনায়তনে কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. আক্কাস সিকদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় সর্বসম্মতিক্রমে এ শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠি প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আ.স.ম মাহমুদুর রহমান পারভেজ।
প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, সভায় কার্যনির্বাহী সদস্যদের মতামত ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে রতন আচার্য্যকে এক বছরের জন্য এবং তরুণ সরকারকে এক মাসের জন্য ক্লাবের সকল কার্যক্রম থেকে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কেন তাদের স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হবে না—তা জানতে চেয়ে আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে কার্যনির্বাহী কমিটির কাছে লিখিত জবাব দাখিলের নোটিশ জারি করা হয়েছে।
উক্ত জরুরি সভায় প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি মো. মাসউদুল আলম, সহসাধারণ সম্পাদক অলোক সাহা, কোষাধ্যক্ষ মো. রাজু খান, ক্রীড়া সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জলিল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মিজানুর রহমান টিটু এবং নির্বাহী সদস্য আজমীর হোসেন তালুকদার, কে এম সবুজ ও তরুণ সরকার। ক্লাবের নেতৃবৃন্দ জানান, সাংবাদিকতা পেশার মর্যাদা, পেশাগত নীতিমালা ও সংগঠনের ভাবমূর্তি রক্ষার স্বার্থেই এই কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, সম্প্রতি ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলায় হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি পরিবারের জমি জোরপূর্বক দখলের অভিযোগ ওঠে স্থানীয় আয়নাল হক নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। ঘটনার সত্যতা ও সংবাদ সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সেখানে যান সাংবাদিক রতন আচার্য্য ও তরুণ সরকার। তারা ভুক্তভোগী পরিবার ও অভিযুক্ত পক্ষ—উভয়ের সঙ্গেই কথা বলে প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করেন।
অভিযোগ রয়েছে, তথ্য সংগ্রহের পর অভিযুক্ত আয়নাল হকের কাছ থেকে অনৈতিকভাবে আর্থিক সুবিধা গ্রহণ করেন তারা এবং পরবর্তীতে সংবাদ প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকেন। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় এক গণমাধ্যমকর্মীর সঙ্গে তাদের মুঠোফোনে বাগ্বিতণ্ডা হয়। পরবর্তীতে টাকা লেনদেনের ভিডিও ক্লিপ ও অডিও কথোপকথনের রেকর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলাজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের জেরেই প্রেসক্লাব তাদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...