বিজ্ঞাপন
গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল ও শেখ সায়েরা খাতুন মেডিকেল কলেজ সংযোগকারী অতি গুরুত্বপূর্ণ সড়কটির এমন বেহাল দশায় চরম ক্ষোভ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন রোগী, স্বজন ও সাধারণ পথচারীরা।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একসময় এই সংযোগ সড়কটির প্রশস্ততা ছিল প্রায় ৬০ ফুট। তবে রহস্যজনক কারণে সড়কটির দুই পাশ সংকুচিত হতে হতে বর্তমানে মাত্র ২৫ ফুটে এসে ঠেকেছে। অর্ধেকেরও বেশি জায়গা সংকুচিত হয়ে পড়ায় সড়কটি দিয়ে এখন দুটি বড় যানবাহন বা অ্যাম্বুলেন্স পাশাপাশি নির্বিঘ্নে চলাচল করতে পারছে না। ফলে দিনের ব্যস্ত সময়ে এই সড়কে সৃষ্টি হচ্ছে তীব্র যানজট।
সরেজমিনে জানা যায়, জেলা শহরের প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল এবং মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মধ্যে সংযোগের একমাত্র মাধ্যম এই সড়ক। জেনারেল হাসপাতাল থেকে কোনো জটিল রোগীকে রেফার্ড করা হলে বা পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য স্থানান্তরের প্রয়োজন হলে এই পথেই অ্যাম্বুলেন্সকে ছুটতে হয়। এছাড়াও প্রতিদিন শত শত চিকিৎসক, মেডিকেল শিক্ষার্থী, নার্স ও জেলার নানা প্রান্ত থেকে আসা হাজারো মানুষ সড়কটি দিয়ে যাতায়াত করেন। কিন্তু সড়কটি অপ্রশস্ত হয়ে পড়ায় জরুরি রোগী বহনকারী যানবাহনও দীর্ঘ সময় জটে আটকে থাকে। চিকিৎসকদের মতে, জরুরি বা সংকটাপন্ন রোগীর ক্ষেত্রে এই সামান্য কয়েক মিনিটের বিলম্বও অনেক সময় রোগীর জীবননাশের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সড়কটি কেন এবং কাদের স্বার্থে ৬০ ফুট থেকে মাত্র ২৫ ফুটে নেমে এলো, তা এখন বড় প্রশ্নের বিষয়। সড়কের জায়গা অবৈধভাবে বেদখল হয়েছে কি না কিংবা কোনো স্থায়ী প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে কি না—তা অবিলম্বে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। স্থানীয় এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যেখানে রোগীর জীবনের প্রশ্ন জড়িত, সেখানে দুই মিনিটের পথ ২০ মিনিট লাগা কোনো সাধারণ সমস্যা নয়; এটি চরম জনদুর্ভোগ। দ্রুত সড়কটির সীমানা নির্ধারণ করে এর প্রকৃত প্রশস্ততা ফিরিয়ে আনা দরকার।”
গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়কের দখলকৃত জায়গা পুনরুদ্ধার, প্রকৃত প্রস্থ নির্ধারণ এবং জরুরি যান চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্ট পৌর কর্তৃপক্ষ ও জেলা প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...