Logo Logo

জোর করে মুখে বিষ ঢেলে গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ, বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন


Splash Image

যৌতুকের লাগাতার দাবি পূরণ করতে না পারায় এক গৃহবধূকে বেধড়ক মারধরের পর জোরপূর্বক মুখে বিষ ঢেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।


বিজ্ঞাপন


গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের বড়ফা গ্রামে সংঘটিত এই রোমহর্ষক ঘটনার বিচার এবং অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছে পুরো এলাকা। শনিবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় হত্যাকারীদের দ্রুত ফাঁসির দাবিতে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ক্ষুব্ধ জনতা।

নিহত গৃহবধূর নাম মুসলিমা খানম (২৮)। তিনি বড়ফা গ্রামের তোবারক মোল্লার মেয়ে। ২০১৪ সালে পারিবারিকভাবে একই গ্রামের নুরুজ্জামান মোল্লার ছেলে কুরবান মোল্লার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তবে দাম্পত্য জীবনের শুরু থেকেই যৌতুকের জন্য মুসলিমার ওপর নেমে আসে চরম নির্যাতন।

নিহতের ভাই জুয়েল মোল্লা, মা মর্জিনা বেগম এবং প্রতিবেশী কামরুল ইসলাম মোল্লা ও ইকরাম সরদার জানান, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে কুরবান মুসলিমাকে দফায় দফায় শারীরিক নির্যাতন করত। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময়ে মুসলিমার পরিবার প্রায় ৫ লাখ টাকা দিলেও কুরবানের লোভের কোনো শেষ ছিল না। নির্যাতন মাত্রাতিরিক্ত রূপ নিলে বাধ্য হয়ে ২০২২ সালে মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে জামাই কুরবানের বিরুদ্ধে আদালতে যৌতুক নিরোধ আইনে মামলা করেন। পরবর্তীতে স্থানীয় মাতব্বরদের মধ্যস্থতায় আপস-মীমাংসার মাধ্যমে মুসলিমাকে আবারও তার শ্বশুরবাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া হয়। কিন্তু কিছুদিনের ব্যবধানে ফের টাকার দাবিতে শুরু হয় পাশবিক নির্যাতন।

স্বজনদের অভিযোগ, গত ২৭ আগস্ট যৌতুকের টাকা নিয়ে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে কুরবান ও তার পরিবারের সদস্যরা মুসলিমাকে নির্মমভাবে মারপিট করে। আঘাতে মুসলিমা মাটিতে লুটিয়ে পড়লে তাকে চেপে ধরে জোর করে মুখের ভেতরে কীটনাশক (বিষ) ঢেলে দেওয়া হয়।

বিষক্রিয়ায় মুসলিমা অচেতন হয়ে পড়লে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে সাজাতে এক বর্বরোচিত নাটক সাজায় পাষণ্ড স্বামী। কুরবান ও তার বাবা নুরুজ্জামান মুসলিমাকে একটি ভ্যানে তুলে বাবার বাড়ির উঠানে ফেলে রেখে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করে। তাদের সন্দেহজনকভাবে ছুটতে দেখে স্থানীয় রিকু মোল্লা, কিচমত মোল্লাসহ অন্তত ১৫-২০ জন বাসিন্দা তাদের পথরোধ করেন। পালানোর কারণ জানতে চাইলে একপর্যায়ে তারা উপস্থিত জনতার সামনেই মুসলিমাকে জোরপূর্বক বিষ খাওয়ানোর কথা স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনার ভান করে। তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দিলে পুলিশ এসে কুরবান ও তার বাবা নুরুজ্জামানকে আটক করে নিয়ে যায়।

এদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পরিবারের সদস্যরা মুসলিমাকে দ্রুত উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নেন। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই রাতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন হতভাগ্য মুসলিমা। পরদিন ২৮ আগস্ট ময়নাতদন্ত শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এ ঘটনায় নিহতের মা মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে স্বামী কুরবান মোল্লা ও শ্বশুর নুরুজ্জামান মোল্লাসহ চারজনকে আসামি করে গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক ফাঁসির দাবিতে শনিবার বেলা সাড়ে ১১টায় চন্দ্রদিঘলিয়া-মধুমতি সড়কের বড়ফা নতুন বাজারে এক বিশাল মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে এলাকার কয়েক শতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করে ঘাতকদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসি কার্যকর করার দাবি জানান।

গোপালগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, "গৃহবধূকে বিষ খাইয়ে হত্যার অভিযোগে থানায় নিয়মিত মামলা রুজু হয়েছে। ঘটনার পরপরই অভিযুক্ত স্বামী কুরবান মোল্লা ও শ্বশুর নুরুজ্জামান মোল্লাকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে। মামলাটির তদন্ত অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চলছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর আইন অনুযায়ী কঠোর পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...