বিজ্ঞাপন
গ্রেপ্তারকৃত রফিকুল ইসলাম মৃধা গোয়ালন্দ উপজেলার আইনুদ্দিন প্রামানিক পাড়ার মৃত জলিল মৃধার ছেলে।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) ফরিদপুর ক্যাম্পের র্যাব-১০, সিপিসি-৩-এর একটি চৌকস আভিযানিক দল গোয়েন্দা নজরদারি ও আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহযোগিতায় ফরিদপুর জেলার কোতোয়ালি থানার বেপারী পাড়া এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে প্রধান অভিযুক্ত রফিকুলকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, দৌলতদিয়া এলাকার বাসিন্দা দরিদ্র বৃদ্ধা নবিরন নেছা নিজেই বর্গা জমিতে কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। গত ২ সেপ্টেম্বর বিকেলে তিনি নিজ বর্গা জমিতে কাজ করতে যান। কিন্তু সন্ধ্যা পার হয়ে গেলেও ঘরে না ফেরায় তার মেয়ে বাড়ির আশপাশসহ বিভিন্ন সম্ভাব্য স্থানে সন্ধান চালাতে থাকেন। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রতিবেশী রফিকুল ইসলাম মৃধার আখক্ষেতে নবিরন নেছার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
প্রাথমিক অবস্থায় ধারণা করা হয়েছিল যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে পানিতে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু ঘটেছে। তবে পরবর্তীতে নিহতের স্বজনেরা ঘটনাস্থলের চারপাশ অনুসন্ধান করে জানতে পারেন, অভিযুক্ত রফিকুল ইসলাম মৃধা নিজ জমি রক্ষায় চারপাশ দিয়ে অবৈধভাবে জিআই তারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সংযোগ দিয়ে রেখেছিলেন। মাঠে কাজ করার সময় সেই খোলা তারের সংস্পর্শে এসেই নবিরন নেছার মৃত্যু হয়। মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে অভিযুক্তরা নিহতের মরদেহ ধানক্ষেত থেকে টেনে নিয়ে পার্শ্ববর্তী আখক্ষেতে লুকিয়ে রাখে এবং তা গুমের উদ্দেশ্যে আখক্ষেতের পাশেই একটি গর্ত খনন করে।
এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় নিহত বৃদ্ধার মেয়ে বাদী হয়ে রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ ঘাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরবর্তীতে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জড়িতদের দ্রুত চিহ্নিত ও গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে র্যাব-১০, ঢাকা বরাবর অধিযাচন পত্র পাঠান। এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-১০ গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি করে আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-১০, সিপিসি-৩, ফরিদপুর ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার এডি মেজর ফারহান মাহমুদ মোক্তাদা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, প্রতিষ্ঠার সূচনালগ্ন থেকেই র্যাব হত্যা, অপহরণ, মাদক, ছিনতাই ও প্রতারণাসহ নানা স্পর্শকাতর অপরাধের সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে। প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও আধুনিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সব ধরনের অপরাধ দমনে র্যাবের কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...