বিজ্ঞাপন
মামলা সূত্রে জানা যায়, গত ১১ আগস্ট মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সাহারার মা মুক্তা বেগম রান্নার কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ সময় শিশুটি বাড়ির আশপাশে হাঁটাহাঁটি করছিল। কিছুক্ষণ পর শিশুটির কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে দুপুর ১টার দিকে বাড়ির পাশে পানির মধ্যে শিশুটির মরদেহ পাওয়া যায়।
স্বজনদের দাবি, প্রথমে তারা ধারণা করেছিলেন, পানিতে পড়েই হয়তো শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তবে মরদেহ উদ্ধারের পর সাহারার পেটের ওপর নাভির আশপাশে পোড়া ও ফোসকার মতো চিহ্ন এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্বাভাবিক দাগ দেখতে পান তারা। শিশুটির মুখে হাতের চাপের মতো চিহ্ন ও গলায় দাগও দেখতে পাওয়ার দাবি করেছেন তার মা।
মুক্তা বেগম বলেন, মেয়ের মৃত্যুর শোকে তারা প্রথমে বিষয়গুলো ঠিকভাবে বুঝতে পারেননি। তার স্বামী অন্য জেলা থেকে গোপালগঞ্জে এসে জানাজায় অংশ নেন। তিনিও তখন বিষয়টি খেয়াল করতে পারেননি। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে তাদের সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
মুক্তা বেগমের অভিযোগ, তার মেয়েকে ধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ গোপনে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়ে থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা এখনো তদন্তে প্রমাণিত হয়নি।
তিনি জানান, ঘটনার পর প্রথমে কাশিয়ানী থানায় মামলা করতে গেলেও সেখানে মামলা গ্রহণ করা হয়নি। এরই মধ্যে শিশুটিকে দাফন করা হয়ে যাওয়ায় পরবর্তীতে তিনি গোপালগঞ্জের বিজ্ঞ আদালতে হত্যা মামলা করেন।
মুক্তা বেগম প্রশাসনের কাছে তার মেয়ের মরদেহ প্রয়োজনে কবর থেকে উত্তোলন করে ময়নাতদন্তসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে সাহারার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটন এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে দেশের প্রচলিত আইনে কঠোর শাস্তির দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে দুই বছরের শিশুর এমন মৃত্যু এবং মরদেহে অস্বাভাবিক দাগের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরিবারের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সঠিক তদন্তের মাধ্যমে শিশুটির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বেরিয়ে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...