বিজ্ঞাপন
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী রেঞ্জের উপ-মহাপুলিশ পরিদর্শক (ডিআইজি) মো. আশিক সাঈদ তার কার্যালয়ে জয়নুল আবেদীনের হাতে অর্থ পুরস্কার তুলে দেন। এর আগে রোববার বগুড়া জেলার পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদ তাকে জেলার ‘বেস্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার’ হিসেবে বিশেষ সম্মাননা প্রদান করেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ৪ আগস্ট শেরপুর থানার ররোয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের নয় বছর বয়সী শিশু রাজু হোসেন নিখোঁজ হয়। বাদীর প্রতিবেশী মোত্তাকিন (২২) বিস্কুট ও চকোলেটের প্রলোভন দেখিয়ে একটি ব্যাটারিচালিত মিশুক গাড়িতে করে শিশুটিকে অপহরণ করে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। পরে চুরির ঘটনা জানাজানি হওয়ার আশঙ্কায় মোত্তাকিন ও তার সহযোগী আব্দুল করিম (৪২) সিরাজগঞ্জের তাড়াশ থানার গাবরগাড়ী গ্রামের একটি ধানক্ষেতে শিশু রাজুকে শ্বাসরোধ করে এবং কাদার নিচে মাথা চেপে ধরে হত্যা করে। এরপর তারা মরদেহ গুম করে।
মামলার তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার পর পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জয়নুল আবেদীন কোনো দৃশ্যমান ক্লু না থাকা সত্ত্বেও তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত এগিয়ে নেন। কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) পর্যালোচনার মাধ্যমে তিনি হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত করেন।
পরে তার নেতৃত্বে অভিযান চালিয়ে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে মামলার মূল আসামি মোত্তাকিন এবং শেরপুর থেকে সহযোগী আব্দুল করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে সিরাজগঞ্জের একটি ধানক্ষেত থেকে শিশু রাজুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে লুণ্ঠিত মিশুক গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্রাংশও জব্দ করা হয়।
গ্রেপ্তার হওয়া মোত্তাকিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়ে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দেয়।
চাঞ্চল্যকর এ ক্লুলেস হত্যা ও চুরির মামলার রহস্য দ্রুত উদঘাটন, আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী শিশুর মরদেহ উদ্ধারে তদন্ত কর্মকর্তা জয়নুল আবেদীনের পেশাদারিত্ব ও দক্ষতা পুলিশ বিভাগে প্রশংসিত হয়েছে। এরই স্বীকৃতি হিসেবে তাকে বগুড়া জেলার আগস্ট মাসের ‘বেস্ট ইনভেস্টিগেটিং অফিসার’ নির্বাচিত করে বিশেষ সম্মাননা ও পুরস্কার দেওয়া হয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...