বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের নিচতলায় অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখার স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে পুরো বেজমেন্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়লে হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে তারা দ্রুত নিচে নেমে আসেন।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হাসপাতালের কর্মীরা ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে বেজমেন্ট পুরোপুরি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দেখতে পান। তবে হাসপাতালের কর্মীরা ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। আগুন না থাকায় এবং তাৎক্ষণিক ঝুঁকি না থাকায় রোগীদের একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নিষেধ করা হয়। একসঙ্গে অনেক রোগী নামতে গেলে হুড়োহুড়ির কারণে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলেও জানান তিনি।
বারবার একই স্থানে আগুন লাগার সম্ভাব্য কারণ সম্পর্কে নূরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটি বহুতল ভবন হওয়ায় বিভিন্ন তলায় অক্সিজেনের লাইন রয়েছে। বেজমেন্টে থাকা অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাপ সামলাতে না পারায় পাইপে ত্রুটি তৈরি হয়ে সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হতে হবে।
ঘটনার সময় হাসপাতালে থাকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মতিয়ার নামে এক রোগীর স্বজন বলেন, তারা রোগীকে ওষুধ খাওয়াচ্ছিলেন। হঠাৎ দ্রুত বের হয়ে যেতে বলা হলে রোগীকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন। বাইরে এসে শুধু ধোঁয়া দেখতে পান। তার রোগী গলা ও থাইরয়েডের সমস্যায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে রোগীর কোনো ক্ষতি হয়নি।
আরেক রোগীর স্বজন জানান, তার রোগী আগের দিন সিজারিয়ানের মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন এবং হাসপাতালের অষ্টম তলায় ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে নার্সসহ অন্যরা রোগীদের দ্রুত নিচে নেমে আসতে বলেন। পরে কয়েকজন মিলে ওই রোগীকে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন। এ ঘটনায় তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী ময়না বলেন, হাসপাতালের বিপরীত পাশে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ শুনে তাকিয়ে দেখেন, চারপাশ ধোঁয়ায় ভরে গেছে। এর আগে একই হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটায় আবারও এমন ঘটনায় পরিবার নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে, ঘটনার পর গণমাধ্যমকর্মীরা হাসপাতালে গেলে তাদের প্রবেশে বাধা দেন সেখানে কর্মরত স্টাফরা। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগে গত ৪ আগস্ট দুপুরে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত ব্লিস হাসপাতালে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট প্রথমে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রোগীর সংখ্যা বিবেচনায় আরও ইউনিট যুক্ত করা হয়। মোট চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগীদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। তখন আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিস্তারিত তদন্তের কথা জানিয়েছিল ফায়ার সার্ভিস।
আগস্টের ওই ঘটনার পর এবার আবারও একই হাসপাতালের অক্সিজেন ব্যবস্থাপনার এলাকায় আগুন লাগায় রোগী, স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে হাসপাতালের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। হাসপাতালের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা, অক্সিজেন সিলিন্ডার সংরক্ষণ এবং কারিগরি ব্যবস্থাপনা যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
তবে মঙ্গলবারের আগুনের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের তদন্তের পর বিষয়টি স্পষ্ট হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...