বিজ্ঞাপন
ভাদ্রের প্রখর তাপদাহ শেষে আশ্বিনের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে জেলার প্রকৃতিতেও এসেছে দৃশ্যমান পরিবর্তন। বিশেষ করে শেষ রাত থেকে সকাল ৬টা-৭টা পর্যন্ত তিস্তা নদীর অববাহিকা ও জেলার বিভিন্ন গ্রামাঞ্চলে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ বিরাজ করছে। মেঠোপথে শিশিরের আল্পনা আর ধানখেতে ভেজা বাতাসের ছোঁয়া পুরো জেলাজুড়ে তৈরি করছে এক মায়াবী আবহ।
প্রকৃতির এই আকস্মিক ও স্নিগ্ধ পরিবর্তন নিয়ে কথা হয় স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে।
স্থানীয় কৃষক মুছা ইসলাম (৪৫) বলেন, ‘সকালে ধানখেতে নামলে এখন পায়ে শিশির লাগে। শেষ রাতে হালকা কাঁথাও গায়ে দিতে হচ্ছে। ভাদ্রের গরমের পর আশ্বিনের ভোরের এই ঠান্ডা বাতাসে কাজ করতে অনেক শান্তি লাগে। মনে হচ্ছে এবার শীত একটু আগেই চলে আসবে।’
মোটরসাইকেল চালক সাজ্জাদ পারভেজ (২৮) বলেন, ‘সকালে বাইক নিয়ে বের হলে একদম কুয়াশার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। কিছু দূর পরপরই রাস্তার ওপর ঘন কুয়াশা জমে থাকে। মনে হয় পুরো সড়কটাই যেন কুয়াশার চাদরে ঢাকা। ভোরের এই রূপটা বেশ উপভোগ করার মতো।’
এদিকে পরিচিত মুখ আফরিন নাহার (৫২) হেসে বলেন, ‘শেষ রাতের দিকে ফ্যান বন্ধ করে দিতে হয়, হালকা শীত অনুভব হয়। ভোরের আলো ফোটার দৃশ্যটাও এখন অন্যরকম লাগে। চারপাশের ধোঁয়াশা আর গাছের পাতায় টিপটিপ করে ঝরে পড়া শিশির স্পষ্ট জানান দিচ্ছে, প্রকৃতি পাল্টে যাচ্ছে।’
আশ্বিনের প্রভাতে কুয়াশার আগমন ও প্রকৃতির নির্মল রূপ নীলফামারীর প্রতিটি প্রান্তে তৈরি করেছে এক মুগ্ধকর পরিবেশ। দিনের ব্যস্ত জীবনের মাঝেও ভোরের এই স্নিগ্ধ আবহ স্থানীয় মানুষের মনে এনে দিচ্ছে নতুন আমেজ। প্রকৃতির এই পরিবর্তন যেন জানান দিচ্ছে—শীতের আগমনের দিন আর খুব বেশি দূরে নয়।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...