বিজ্ঞাপন
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জ পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের চর সোনাকুড় এলাকায় অবস্থিত ভবনটির দায়িত্ব গ্রহণের কার্যক্রম পরিচালনা করে দুদক, গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়।
দুদক গোপালগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নির্ধারিত সময়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে রিসিভারের দায়িত্বভার গ্রহণ এবং কার্যক্রমে সার্বিক সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করা হয়।
নিয়োগপ্রাপ্ত রিসিভাররা হলেন—দুদকের সরকারি পরিচালক আব্দুল লতিব হাওলাদার ও উপসহকারী পরিচালক আফসার উদ্দিন।
দুদক সূত্রে জানা যায়, দুদক, জেলা কার্যালয়, ঢাকা-১-এর মামলা নম্বর ৪৩, তারিখ ১৩ জানুয়ারি ২০২৫-এর পরিপ্রেক্ষিতে ‘স্বর্ণা টাওয়ার’ সম্পত্তির বিষয়টি আদালতের নজরে আসে। পরে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত ২০২৫ সালের ২৬ জুন ও ২৪ আগস্ট এ মামলায় পৃথক আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশনার পর সম্পত্তিটি ক্রোক/অবরুদ্ধ করা হয় এবং রিসিভার নিয়োগ দেওয়া হয়।
প্রকৃত সম্পত্তির মধ্যে ভবনটির ৩০টি ফ্ল্যাট ইউনিট, একটি লিফট, সিসিটিভি ব্যবস্থা ও বিভিন্ন আসবাবপত্র রয়েছে।
গোপালগঞ্জ জেলা দুদকের উপসহকারী পরিচালক ও নিয়োগপ্রাপ্ত রিসিভার আফসার উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ‘স্বর্ণা টাওয়ার’-এর সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব রিসিভারের কাছে হস্তান্তরের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি জানান, সম্পত্তি ক্রোক/অবরুদ্ধ এবং রিসিভার নিয়োগের পর এবার ভবনটির বাস্তব রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। আদালতের আদেশ অনুযায়ী এখন থেকে ভবনটির ব্যবস্থাপনা রিসিভারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হবে।
এদিকে ভবন মালিকের বড় ভাই আবুল কালাম আজাদ দাবি করেন, তারা দুজন ভাই প্রায় তিন যুগ ধরে ফিলিপাইনে বসবাস করছেন। তাদের উপার্জিত অর্থ দিয়েই ভবনটি নির্মাণ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমরা রেমিট্যান্স যোদ্ধা। আমাদের রক্ত-ঘামের বিনিময়ে অর্জিত টাকায় এই ভবন নির্মাণ করেছি। আমাদের কোনো কালো টাকা নেই।”
তিনি আরও বলেন, ভবনের ওপর আদালতের মালামাল জব্দ এবং রিসিভার নিয়োগের বিষয়টি তারা আগে থেকে অবগত ছিলেন না। মঙ্গলবার দুদকের নোটিশ পাওয়ার পরদিনই আদালতের আদেশ কার্যকর করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আবুল কালাম আজাদের ভাষ্য, “আমরা সব বিষয় জানার আগেই তারা তাদের কার্যক্রম সম্পাদন করেছেন।”
তবে সম্পত্তি ক্রোক, অবরুদ্ধকরণ ও রিসিভার নিয়োগের বিষয়ে আদালতের আদেশ অনুযায়ী দুদক কার্যক্রম পরিচালনা করছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...