বিজ্ঞাপন
একসময় পরিবারের আহার জোগাতে অন্যের বাড়িতে বাঁশের সিলিং তৈরির কাজ করতেন হাজিমুল। তীব্র অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যেও নিজের কিছু করার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। তবে পণ্য তৈরি করলেও তা কীভাবে বাজারজাত করবেন, ছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত প্রযুক্তির সহায়তা নেন। ইউটিউব দেখে বাঁশের বাহারি পণ্য তৈরির কৌশল ও নকশা রপ্ত করতে শুরু করেন তিনি।
প্রাথমিকভাবে নিজের বাড়ির পাশের বাঁশঝাড় থেকে বাঁশ কেটে পানির মগ তৈরি করেন হাজিমুল। পরে সেই পণ্যের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করলে অভাবনীয় সাড়া পান। এরপর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পণ্যের পরিধি ও ক্রেতার চাহিদা। আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।
বর্তমানে তার কারখানায় তৈরি হচ্ছে আধুনিক নকশার মগ, নান্দনিক ট্রে, ল্যাম্পশেড, বাহারি ফুলদানি, শোপিস সেট, ফল ও সবজির ঝুড়ি এবং ড্রয়িংরুমের জন্য আকর্ষণীয় সোফা সেট। অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের পাইকার ও ক্রেতারা নিয়মিত এসব পণ্যের অর্ডার দিচ্ছেন।
হাজিমুল ইসলাম শুধু নিজের ভাগ্যই বদলাননি, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন এলাকার আরও ১৫ জন কর্মহীন নারী-পুরুষের। তার কারখানায় কাজ করা নারী শ্রমিক মনোয়ারা বেগম ও ববিতা রানি রায় জানান, আগে সংসারে অভাব লেগেই থাকত। এখন এই কারখানায় কাজ করে সংসারে স্বচ্ছলতা ফেরানোর পাশাপাশি সন্তানদের পড়াশোনার খরচও চালাতে পারছেন তারা।
কারখানার আরেক শ্রমিক হেলাল উদ্দিন বলেন, প্লাস্টিকের পণ্যের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে তাদের ঐতিহ্যবাহী বাঁশশিল্প যখন বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছিল, তখন এই কারখানায় কাজ পেয়ে তারা নতুন করে জীবনের দিশা পেয়েছেন।
সফল উদ্যোক্তা হাজিমুল ইসলাম জানান, বায়ারের মাধ্যমে তাদের তৈরি পণ্য ইউরোপের বাজারে যাচ্ছে। বর্তমানে তার মাসিক আয় প্রায় ৪০ হাজার টাকা। তবে সরকারি প্রশিক্ষণ ও সুদমুক্ত ঋণ সহায়তা পেলে কারখানাটি আরও সম্প্রসারণের পাশাপাশি দক্ষ জনবল তৈরি করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।
এ বিষয়ে বিসিক নীলফামারী জেলা কার্যালয়ের উপ-ব্যবস্থাপক মো. নূরেল হক জানান, ওই কারখানার জন্য ইতোমধ্যে বিনা সুদে এক লাখ টাকা অর্থায়ন করা হয়েছে। পাশাপাশি কর্মরত শ্রমিকদের দক্ষতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ এবং ব্যবসার প্রসারে সার্বিক সহায়তা অব্যাহত থাকবে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...