বিজ্ঞাপন
নিহত শিশুটির নাম ফাতেমা হাসান রিমি। সে চাটখিল উপজেলার ৭ নম্বর হাটপুকুরিয়া ঘাটলাবাগ ইউনিয়নের বক্তারপুর মুন্সি মিয়া চৌকিদার বাড়ির রবিউল হাসান ও উম্মে সালমা দম্পতির সন্তান।
নিহত শিশুর পরিবারের বিবরণ অনুযায়ী, সোমবার (৫ অক্টোবর) দুপুর ২টার দিকে হামে আক্রান্ত শিশু রিমিকে চিকিৎসার জন্য চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসককে শিশুটির শারীরিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট দেখালে নার্স এসে তাকে ইনজেকশন ও স্যালাইন প্রদান করেন।
শিশুটির মা উম্মে সালমা অভিযোগ করে জানান, ইনজেকশন ও স্যালাইন দেওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অবোধ শিশুটির শারীরিক অবস্থার চরম অবনতি ঘটে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশুটির জন্য জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেনের প্রয়োজন হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ অক্সিজেনের ব্যবস্থা করতে পারেনি। চিকিৎসা গ্রহণে অবহেলা এবং প্রয়োজনীয় সুবিধার অভাবে বেলা ৩টার দিকে শিশুটির মৃত্যু হয়।
ভুল চিকিৎসা ও কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনায় শিশুর মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগে ক্ষুব্ধ স্বজন ও উপস্থিত জনতা হাসপাতাল প্রাঙ্গণে তোলপাড় সৃষ্টি করেন এবং ভাঙচুর চালান। পরিস্থিতি মারাত্মক আকার ধারণ করলে চাটখিল থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এরপর দায়িত্বপ্রাপ্ত উপ-পরিদর্শক (এসআই) শিশুটির সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন।
উদ্ভূত পরিস্থিতির মুখে চাটখিল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শহিদুল আলম নয়নের বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো ধরণের মন্তব্য প্রকাশ করতে অস্বীকৃতি জানান।
পরবর্তীতে চাটখিল উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মিজানুর রহমান ও চাটখিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল মোন্নাফ সরজমিনে উপস্থিত হয়ে বিক্ষুব্ধদের শান্ত করেন। তারা শোকার্ত পরিবারের সাথে কথা বলেন এবং সম্পূর্ণ ঘটনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের সর্বোচ্চ আশ্বাস প্রদান করেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সুষ্ঠু বিচারের প্রতিশ্রুতি পেয়ে সোমবার রাত সাড়ে ৯টায় শিশুটির লাশ স্বজনরা নিজ বাড়িতে নিয়ে যান।
প্রতিবেদক- মোঃ সিরাজুল ইসলাম হাসান, চাটখিল, নোয়াখালী।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...