বিজ্ঞাপন
টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে এর আগে এমন অলরাউন্ড নৈপুণ্যের নজির দেখা যায়নি বললেই চলে। এতদিন দুই ইনিংসে ফিফটি এবং সর্বোচ্চ ৮টি ডিসমিসালের কীর্তিটি দখলে রেখেছিলেন দক্ষিণ আফ্রিকার কিংবদন্তি উইকেটরক্ষক ডেনিস লিন্ডসে। ১৯৬৬ সালে জোহানেসবার্গে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছিলেন প্রোটিয়া তারকা। দীর্ঘ ৫৮ বছর পর সেই মাইলফলক পেছনে ফেলে রেকর্ডের চূড়ায় নিজের নামটি খোদাই করে নিলেন লিটন। আবুধাবি টেস্টের প্রথম ইনিংসে ৫৩ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে অনবদ্য ১০২ রানের ইনিংস খেলে আগেই ব্যাট হাতে বাংলাদেশকে শক্ত ভিত গড়ে দিয়েছিলেন তিনি।
চলমান টেস্টে লিটনের এই কীর্তি আরও সমৃদ্ধ হওয়ার যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। কারণ ম্যাচটি এখনও শেষ হয়নি। প্রথম ইনিংসেও ঠিক একইভাবে প্রথম স্লিপের মুখ থেকে ডাইভ দিয়ে এক দর্শনীয় ক্যাচ নিয়েছিলেন তিনি, যেখানে বোলার ছিলেন সেই এবাদত হোসেনই। দ্বিতীয় ইনিংসেও এবাদত-লিটন জুটিতেই থামল আফগানিস্তানের শক্ত প্রতিরোধ। উইকেটে জমে যাওয়া আফগানদের ৬৬ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি ভেঙে ম্যাচে চালকের আসনে ফেরে নাজমুল হোসেন শান্তর দল।
জয়ের জন্য ৪৭৯ রানের পাহাড়সম লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আগের দিন ৩ উইকেটে ১৩২ রান তুলেছিল আফগানিস্তান। পঞ্চম ও শেষ দিনে জয়ের জন্য তাদের প্রয়োজন ছিল ৩৪৭ রান, বিপরীতে বাংলাদেশের দরকার ছিল বাকি থাকা ৭ উইকেট। ড্র অথবা অবিশ্বাস্য জয়ের লক্ষ্যে বেশ শক্ত প্রতিরোধ গড়েছিলেন আফগান ব্যাটাররা। মাঝে অধিনায়ক হাশমতউল্লাহ শহীদি পায়ে আঘাত পেয়ে রিটায়ার্ড হার্ট হলেও উইকেট ধরে রেখে টাইগার বোলারদের কঠিন পরীক্ষা নিচ্ছিলেন তারা।
ইকরাম আলিখিলকে ফিরিয়ে ২০২ রানে সফরকারীদের চতুর্থ উইকেটের পতন ঘটিয়ে ম্যাচ পুরোপুরি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় বাংলাদেশ। আফগানদের ড্র কিংবা জয়ের ক্ষীণ সম্ভাবনায় জোর ধাক্কা দিয়ে এখন টেস্ট জয়ের মঞ্চ প্রস্তুত টাইগারদের সামনে। শেষ খবর পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে দুর্দান্ত বোলিং করে এবাদত হোসেন তুলে নিয়েছেন ৩টি এবং পেসার হাসান মাহমুদ শিকার করেছেন ১টি উইকেট। বাকি থাকা উইকেটগুলো দ্রুত তুলে নিয়ে জয়োল্লাসে মাতাই এখন লক্ষ্য লাল-সবুজের প্রতিনিধিদের।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...