রাজীব গান্ধীর সঙ্গে পরিচয়ের স্মৃতিচারণায় সোনিয়া গান্ধী। ছবি: ইন্ডিয়া টুডে
বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক্স-এ অ্যাকাউন্ট খুলেন সোনিয়া। এরপর শনিবার নিজের প্রথম ভিডিও পোস্টে ‘বিলংগিং: আ জার্নি অব লাভ’ নিয়ে কথা বলেন তিনি। বইটি আগামী ১০ নভেম্বর প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তার স্মৃতি এবং তরুণ বয়স থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত জীবনের যাত্রা তুলে ধরা হয়েছে।
প্রায় দুই মিনিটের ওই ভিডিওতে সোনিয়া জানান, যুক্তরাজ্যের ক্যামব্রিজের একটি গ্রিক রেস্তোরাঁয় রাজীবের সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়। সেখান থেকেই তাদের ভালোবাসার গল্পের শুরু।
এক্স-এ প্রকাশিত ভিডিওতে সোনিয়া বলেন, “ক্যামব্রিজের একটি ছোট গ্রিক রেস্তোরাঁয় আমার ভালোবাসার যাত্রা শুরু হয়েছিল। রাজীব ও আমি ভালোবাসা, হাসি আর স্মৃতিতে ভরা একটি জগৎ তৈরি করেছিলাম। আগামী ১০ নভেম্বর সেই জগৎ আপনাদের সঙ্গে ভাগ করে নেব।”
প্রথম দেখার কথা স্মরণ করে সোনিয়া আবেগভরে রাজীব গান্ধী সম্পর্কে কথা বলেন। তিনি জানান, রাজীবের কোন কোন গুণ তাকে আকৃষ্ট করেছিল। একই সঙ্গে রাজীব কতটা সুদর্শন ছিলেন, সেটা জোরের সঙ্গে বলেন।
সেই দিনগুলোতে ইংল্যান্ডে ভালো খাবার খোঁজার সমস্যার কথাও সোনিয়া স্মরণ করেন। তিনি জানান, তখন রেস্তোরাঁ বেশ কম ছিল এবং শেষ পর্যন্ত তিনি এমন একটি গ্রিক রেস্তোরাঁ খুঁজে পান, যেখানে ভারতীয় ও ইতালীয় শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যেতেন। আর সেখানেই এক কমন বন্ধুর মাধ্যমে রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তার প্রথম পরিচয় হয়।
রাজীব গান্ধীকে প্রথম দেখার অনুভূতির কথা স্মরণ করে সোনিয়া জানান, “অবশ্যই তিনি দেখতে খুবই সুদর্শন ছিলেন। তবে তার যে বিষয়টি আমাকে সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ ও স্পর্শ করেছিল, তা হলো তার মৃদু ও ভদ্র স্বভাব। প্রথম দেখাতেই আমার মনে হয়েছিল, তিনি এমন একজন মানুষ- যার সঙ্গে আমি থাকতে চাই। পরে আমি জানতে পারি যে তিনিও একই অনুভব করেছিলেন। তার সঙ্গে আমার প্রথম সেই সাক্ষাতের কথা আমি কখনো ভুলব না।”
বৃহস্পতিবার এক্স-এর পাশাপাশি ইনস্টাগ্রামেও আত্মপ্রকাশ করেছেন সোনিয়া গান্ধী। ইনস্টাগ্রামের প্রথম পোস্টে বইটির প্রচ্ছদ ও প্রথম ঝলক শেয়ার করে তিনি লেখেন, “এটি ভালোবাসা, কর্তব্য, ক্ষতি এবং নিজের একটি স্থায়ী ঠিকানা খুঁজে পাওয়ার গল্প।”
৫৪৪ পৃষ্ঠার এই স্মৃতিকথাটি বিশ্বব্যাপী প্রকাশ করছে স্বনামধন্য প্রকাশনা সংস্থা ‘আলফ্রেড এ. কনফ’ এবং ভারতে এর প্রকাশের দায়িত্বে রয়েছে ‘হার্পারকলিন্স ইন্ডিয়া’। যুদ্ধোত্তর ইতালিতে সোনিয়া গান্ধীর শৈশব, রাজীব গান্ধীর সঙ্গে তার পরিচয়, পরবর্তীতে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তার প্রবেশ এবং ইন্দিরা গান্ধী ও রাজীব গান্ধীর মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের মতো ব্যক্তিগত ট্র্যাজেডির অধ্যায়গুলো এই বইটিতে তুলে ধরা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...