Logo Logo

ঝালকাঠিতে ডিবির পৃথক অভিযানে ইয়াবাসহ ৪ জন গ্রেপ্তার


Splash Image

ঝালকাঠির রাজাপুর ও কাঁঠালিয়ায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান: ইয়াবা ও নগদ টাকাসহ ৪ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার


বিজ্ঞাপন


মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে ঝালকাঠিতে সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। জেলার কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর উপজেলার পৃথক দুটি স্থানে ঝটিকা অভিযান চালিয়ে চার মাদকসেবী ও কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় রাজাপুর থেকে ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক বিক্রির নগদ অর্থ এবং আইফোনসহ দুটি দামি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে ডোপ টেস্টের মাধ্যমে আসামিদের শরীরে মাদকের উপস্থিতি শতভাগ নিশ্চিত করে পুলিশ।

ডিবি পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দিবাগত রাতে কাঁঠালিয়া উপজেলার চেঁচরী রামপুর ইউনিয়নের মহিষকান্দি এলাকায় প্রথম অভিযানটি পরিচালিত হয়। সেখানে আনোয়ার হোসেনের (২৮) বসতঘরে হানা দেয় ডিবির একটি চৌকস দল। ঘরে বসে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবনরত অবস্থায় আনোয়ারকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তাঁর দ্রুত ডোপ টেস্ট (ICT) সম্পন্ন করা হলে শরীরে ক্ষতিকর মাদক উপাদান ‘অ্যামফিটামিন’-এর প্রমাণ মেলে।

অন্যদিকে, একই রাতে রাজাপুর উপজেলার গালুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের কানুদাসকাঠি গ্রামে অপর একটি সফল অভিযান পরিচালনা করে ডিবি পুলিশ। সেখানকার আলমগীর হোসেন হাওলাদারের টিনশেড বসতঘর ঘিরে ফেলে তল্লাশি চালানো হয়। এ সময় ১০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, মাদক কেনাবেচার নগদ ২ হাজার ১৫০ টাকা, একটি ‘আইফোন ১৪ প্রো ম্যাক্স’ ও একটি ‘ভিভো ২১’ অ্যান্ড্রয়েড ফোনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজাপুরে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—স্থানীয় আলমগীর হোসেন হাওলাদারের ছেলে রিয়াদ হাওলাদার (২১), পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া উপজেলার নয়ালী এলাকার মৃত হারুন গাজীর ছেলে সোহেল গাজী (৪৩) এবং একই উপজেলার হেতালিয়া গ্রামের দুলাল আকনের ছেলে গোলাম রাব্বি (২০)। আটকের পর তাঁদের প্রত্যেকের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে ডোপ টেস্ট করা হয়। এতে রিয়াদ হাওলাদারের শরীরে অ্যামফিটামিন, সোহেল গাজীর শরীরে অ্যামফিটামিন ও ক্যানাবিনয়েডস এবং গোলাম রাব্বির শরীরে ক্যানাবিনয়েডসের উপস্থিতি সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানায়, তরুণ প্রজন্মকে লক্ষ্য করে চক্রটি আইফোন ও আধুনিক প্রযুক্তির আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তবর্তী উপজেলাগুলোয় মাদক কারবার ও আসর চালিয়ে আসছিল। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে কাঁঠালিয়া ও রাজাপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করে শুক্রবার দুপুরে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হুমায়ুন কবির অভিযানের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, "ঝালকাঠিকে মাদকমুক্ত করতে গোয়েন্দা পুলিশের নিয়মিত ও বিশেষ অভিযান জোরদার করা হয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নিখুঁত পরিকল্পনা করে এই চারজনকে হাতেনাতে ধরা হয়। ডোপ টেস্টের মাধ্যমে অপরাধের বিজ্ঞানসম্মত প্রমাণ নেওয়া হয়েছে। মাদকের সঙ্গে যুক্ত যত বড় চক্রই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না; আমাদের এই সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত থাকবে।"

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...