Logo Logo

সংবাদ প্রকাশের পর তৎপর প্রশাসন: বাকেরগঞ্জে অবশেষে ধর্ষণের মামলা গ্রহণ


Splash Image

বিয়ের মাত্র ১৬–১৭ দিনের মাথায় গণধর্ষণের শিকার হয়ে থানায় বিচার চাইতে গিয়ে চরম হয়রানি ও মামলার বদলে উল্টো কারাদণ্ডের ভীতি প্রদর্শনের শিকার হওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বরিশালের বাকেরগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে। তবে এ নিয়ে গণমাধ্যমে অনুসন্ধানী সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছে পুলিশ প্রশাসন। সংবাদ প্রকাশের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ভুক্তভোগী নববধূকে বাড়ি থেকে নিয়ে এসে মামলা গ্রহণ করেছে বাকেরগঞ্জ থানা পুলিশ।


বিজ্ঞাপন


পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ২৯ অক্টোবর বিভিন্ন মূলধারার গণমাধ্যম ও অনলাইন পোর্টালে বাকেরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আদিল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগের খবর গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশিত হয়। এরপরই ওই দিন সন্ধ্যায় ওসির নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল ভুক্তভোগী তরুণীর বাড়িতে যায় এবং তাঁকে সসম্মানে থানায় নিয়ে এসে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে এজাহার নথিভুক্ত করে।

ভুক্তভোগীর দায়ের করা অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের আড়াইবেকী এলাকায় তাঁর শ্বশুরবাড়ি। বিয়ের মাত্র দুই সপ্তাহের মাথায় গত ১৯ অক্টোবর রাতে তাঁর সৎ ভাসুর মো. ইমরান প্যাদা (৩৮) নতুন পোশাক কিনে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাঁকে স্থানীয় বাজারে নিয়ে যান। কেনাকাটা শেষে রাতে বাড়ি ফেরার পথে নির্জন স্থানে নিয়ে সৎ ভাসুর ইমরান এবং প্রতিবেশী চাচা শ্বশুর রাকিব প্যাদা (২৬) তাঁকে জোরপূর্বক পালাক্রমে গণধর্ষণ করেন।

লোমহর্ষক এই ঘটনার পর পরিবারসহ দিশেহারা হয়ে পড়েন ১৭ বছর বয়সী ওই নববধূ। আইনি সুরক্ষা পেতে গত ২৩ অক্টোবর তিনি প্রথমে বরিশাল জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেখানে কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও নির্দেশনা অনুযায়ী স্বামী ও শ্বশুর-শাশুড়িকে সঙ্গে নিয়ে নিয়মিত মামলা করার উদ্দেশ্যে বাকেরগঞ্জ থানায় যান।

তবে থানায় গিয়ে ন্যায়বিচারের বদলে তীব্র মানসিক হয়রানির মুখে পড়েন বলে দাবি ভুক্তভোগীর। তাঁর অভিযোগ, থানার ওসি আদিল হোসেন তাঁর কথা শুনে মামলা নিতে অস্বীকৃতি জানান। ওসি দাবি করেন, ‘ঘটনার পর গোসল করায় আলামত নষ্ট হয়ে গেছে এবং ধর্ষণের কোনো প্রমাণ নেই।’ অভিযোগ প্রমাণিত না হলে উল্টো তাঁকেই মিথ্যা মামলার দায়ে সাত বছরের জেল খাটতে হবে বলে ভয় দেখানো হয়। এমনকি ওসি তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত অশোভন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করে বলেন, ‘শালির অর্ধেক ভাগ নাকি এমনিতেই থাকে।’

যদিও প্রাথমিক পর্যায়ে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেন ওসি আদিল হোসেন। তাঁর দাবি ছিল, লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হলেও পরিবারের সদস্যরা পরে জানাবেন বলে চলে গিয়েছিলেন।

এদিকে একজন ভুক্তভোগী নারীর প্রতি ওসির এমন অপেশাদার আচরণ ও মামলা নিতে গড়িমসির ঘটনাটি প্রকাশ্যে এলে দেশজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজ অবিলম্বে ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং অভিযোগ গোপন রাখা ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের দায়ে সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্তের জোর দাবি জানান।

এ বিষয়ে বরিশালের পুলিশ সুপার (এসপি) এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করে জানান, গণধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধের ক্ষেত্রে মামলা না নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। ভুক্তভোগীর কাছ থেকে অভিযোগ গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি থানার ওসি যদি কোনো ধরনের ভয়ভীতি দেখিয়ে থাকেন কিংবা অভিযোগ গ্রহণে অবহেলা করে থাকেন, তবে তদন্ত সাপেক্ষে তাঁর বিরুদ্ধেও যথাযথ বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...