ঝালকাঠি জেলা জজ আদালতের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন।।
বিজ্ঞাপন
সোমবার (২ নভেম্বর) ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ মামলায় ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি বেল্লাল হোসেনসহ পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঝালকাঠির পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আক্কাস শিকদার।
২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল এশার নামাজ পড়ে ঝালকাঠির গোরস্থান মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় গুলিবিদ্ধ হন অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন। পরে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় পরদিন ঝালকাঠি থানায় হত্যা মামলা করেন নিহতের ছেলে মো. তারেক ইবনে হায়দার।
মামলাটির বিচার শেষে ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠির অতিরিক্ত দায়রা জজ মো. আব্দুল হালিম রায় দেন। রায়ে পাঁচজনকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। পরে ওই বছরই বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের ডেথ রেফারেন্স অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে পাঠানো হয়। এ ছাড়া রায়ের বিরুদ্ধে তিন আসামি আপিল এবং একজন আসামি জেল আপিল করেন।
ঝালকাঠির দুই বিচারক হত্যা মামলার পিপি (সরকারি কৌশলী) অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন হত্যা মামলায় পাঁচ আসামির মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে আসামিদের আপিল ও ডেথ রেফারেন্সের শুনানি শেষে ২০২০ সালের ১ মার্চ এ রায় দেওয়া হয়।
বিচারপতি সৌমেন্দ্র সরকার ও বিচারপতি শাহেদ নুরুদ্দীনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় দেন। ডেথ রেফারেন্স মঞ্জুর করে আসামিদের আপিল খারিজ করেন আদালত।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামি হলেন— মুরাদ হোসেন, আবু শাহাদাত মো. তানভীর ওরফে মেহেদি, আমিনুল ওরফে আমির হোসেন, মো. বেল্লাল হোসেন ও সমীর হোসেন ভূঁইয়া। পাঁচ আসামির মধ্যে অন্যতম বিল্লাল হোসেন পলাতক ছিলেন। সোমবার ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করেন বেল্লাল হোসেন। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ঝালকাঠির পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট আক্কাস শিকদার বলেন, “অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন হত্যা মামলায় আদালতের রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি বেল্লাল হোসেন দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। সোমবার তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। আদালত তাঁর আত্মসমর্পণ গ্রহণ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। এ মামলায় আইনগত প্রক্রিয়া অনুযায়ী পরবর্তী কার্যক্রম চলবে।”
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...