বিজ্ঞাপন
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের এসএসসি টেস্ট পরীক্ষায় আরিফ মোট ৭টি বিষয়ে ফেল করে। বিদ্যালয়ের একাডেমিক কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৪টির বেশি বিষয়ে অকৃতকার্য হলে কোনো শিক্ষার্থীকে মূল পরীক্ষার ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয় না। তবে এই নিয়মকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আরিফ মঙ্গলবার সকালে একদল সঙ্গী নিয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে এবং তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে শিক্ষকদের ওপর চাপ প্রয়োগ করে। শিক্ষকরা আইন ও নিয়মের দোহাই দিলে সে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যখন আরিফ ও তার সহযোগীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে দেয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় সে উচ্চস্বরে ঘোষণা দেয়—দাবি না মানা পর্যন্ত বিদ্যালয় অচল থাকবে। শিক্ষকরা এই তাণ্ডবের ভিডিও চিত্র ধারণ করার চেষ্টা করলে তাদের মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয় এবং চূড়ান্ত অপদস্থ করা হয়। এই ঘটনায় সাধারণ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থী আরিফ ও তার অনুসারীরা অবশ্য তাদের আচরণের সপক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তাদের দাবি, যারা শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ে, তাদের অল্প ফেল থাকলেও পাস করিয়ে দেওয়া হয়েছে। আরিফের দাবি, "আমরা প্রাইভেট পড়ি না বলেই আমাদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। অনেক অনুরোধ করার পরও শিক্ষকরা কথা শোনেননি, তাই ক্ষোভ থেকে তালা দিয়েছি।" তবে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হাসিনা মমতাজ এই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, "এটি সম্পূর্ণ একাডেমিক সিদ্ধান্ত। ৪টির বেশি বিষয়ে ফেল করা কাউকে পরীক্ষায় বসতে না দেওয়ার সিদ্ধান্ত কমিটির। আরিফ ৭ বিষয়ে ফেল করে উগ্র আচরণ ও শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।"
শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক পরিচয়ে শিক্ষাঙ্গনে প্রভাব বিস্তার ও শিক্ষকদের ওপর বলপ্রয়োগের ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। দোয়ারাবাজারের এই ঘটনাটি তারই একটি প্রতিফলন। এলাকার সচেতন অভিভাবক মহল মনে করেন, মেধার পরিবর্তে যদি পেশিশক্তি দিয়ে পরীক্ষার সুযোগ আদায় করা হয়, তবে শিক্ষার গুণগত মান ধ্বংস হয়ে যাবে। এ ঘটনায় দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি উঠেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...