বিজ্ঞাপন
সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নির্বাচন এবং রমজান উপলক্ষে পরিবারের অতিরিক্ত ব্যয় মেটাতেই প্রবাসীরা বর্তমানে বেশি করে অর্থ পাঠাচ্ছেন। রেমিট্যান্সের এই শক্তিশালী প্রবাহ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে অত্যন্ত ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশেষ করে গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই প্রবাসী আয়ে নতুন গতি পরিলক্ষিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথম মাস জানুয়ারিতে প্রবাসীরা ৩১৭ কোটি (৩.১৭ বিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন। দেশীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ৩৮ হাজার ৬৭৪ কোটি টাকা। একক মাস হিসেবে এটি দেশের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স আহরণের রেকর্ড। এর আগে গত বছরের ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ডলার এবং মার্চ মাসে সর্বোচ্চ ৩২৯ কোটি ডলার রেমিট্যান্স এসেছিল।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা যায়, সদ্য সমাপ্ত ২০২৫ সালে দেশে মোট ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার প্রবাসী আয় এসেছে। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জুলাই থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ২ হাজার ১৫৬ কোটি ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় এই প্রবৃদ্ধি ২২.৩ শতাংশ বেশি, যা অর্থনীতির জন্য একটি স্বস্তিদায়ক সূচক।
রিজার্ভের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশের মোট বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ৩৪.৫৪ বিলিয়ন ডলারে। তবে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) বিপিএম-৬ পদ্ধতি অনুসরণ করলে প্রকৃত রিজার্ভের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯.৮৬ বিলিয়ন ডলারে। ডলারের বিনিময় হার স্থিতিশীল থাকা এবং হুন্ডি ব্যবসার প্রভাব কমে আসায় প্রবাসীরা এখন বৈধ পথে অর্থ পাঠাতে বেশি উৎসাহিত হচ্ছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...