সুলাইমান আবদুল আজিজ আল রাজেহীর বিশ্বের বৃহত্তম খেজুর বাগান।
বিজ্ঞাপন
সুলাইমান আল রাজেহীর জীবনযাত্রা কোনো রূপকথার চেয়ে কম নয়। একসময় তিনি ছিলেন অত্যন্ত দরিদ্র। শৈশবে পরিবারের খরচ মেটাতে তিনি কুলি, ঝাড়ুদার এবং পাহারাদার হিসেবে কাজ করেছেন। তবে তার ছিল কঠোর পরিশ্রম করার মানসিকতা এবং সততা। তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার জোরে ভাইদের সাথে নিয়ে তিনি গড়ে তোলেন 'আল রাজেহী ব্যাংক', যা বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইসলামিক ব্যাংক। ফোর্বস ম্যাগাজিনের মতে, একসময় তিনি ছিলেন বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী।
জীবনের এক পর্যায়ে এসে সুলাইমান আল রাজেহী এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি তার সমস্ত সম্পদ দুই ভাগে ভাগ করেন। এক ভাগ তার সন্তানদের মাঝে জীবদ্দশাতেই বণ্টন করে দেন, যাতে তার মৃত্যুর পর কোনো বিরোধ না হয়। আর বাকি বিশাল অংশ—যার বাজারমূল্য প্রায় ৬৫ হাজার কোটি টাকা—মহান আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ বা দান করে দেন। তার এই ওয়াকফকৃত সম্পদের মধ্যে রয়েছে আল রাজেহী ব্যাংকের বিশাল অঙ্কের শেয়ার, রিয়েল এস্টেট এবং বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোলট্রি ফার্ম 'আল ওয়াতানিয়া'।
আল রাজেহীর দানের অন্যতম বিস্ময়কর দৃষ্টান্ত হলো সৌদি আরবের 'আল-কাসিম' অঞ্চলে অবস্থিত তার বিশাল খেজুর বাগান। সম্পূর্ণ আল্লাহর রাস্তায় ওয়াকফ করে দেওয়া এই বাগানে ২ লাখেরও বেশি খেজুর গাছ রয়েছে, যা 'বিশ্বের সবচেয়ে বড় খেজুর বাগান' হিসেবে গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসে স্থান করে নিয়েছে।
এখানে প্রায় ৪৫ প্রজাতির খেজুর চাষ হয় এবং বছরে প্রায় ১০ হাজার টন খেজুর উৎপাদিত হয়। এই বাগান থেকে প্রাপ্ত আয় এবং বিপুল পরিমাণ খেজুর দিয়ে মক্কা ও মদিনার পবিত্র দুই মসজিদে রোজাদারদের ইফতার করানো হয়। এছাড়াও, এই ওয়াকফ ফান্ডের টাকা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে মসজিদ নির্মাণ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নানাবিধ দাতব্য কাজে সরাসরি ব্যয় করা হয়।
আল রাজেহীর মতে, সম্পদের প্রকৃত মালিক মহান আল্লাহ। মানুষ পৃথিবীতে কেবল এর তত্ত্বাবধায়ক মাত্র। আখেরাতের প্রস্তুতি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের লক্ষ্যেই তিনি জীবনের সব উপার্জন বিলিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সবকিছু দান করে দেওয়ার পর এক সাক্ষাৎকারে সুলাইমান আল রাজেহী বলেছিলেন, "এখন আমার নিজের বলতে কোনো ব্যাংক ব্যালেন্স নেই, কোনো শেয়ার বা জমি নেই। আমি এখন সম্পূর্ণ শূন্য।"
তবে এই পার্থিব 'শূন্যতা' তাকে দিয়েছে পরম শান্তি। রাজপ্রাসাদতুল্য বাড়ি ছেড়ে তিনি এখন এক সাধারণ ও সাদামাটা জীবন যাপন করেন। আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় তার এই বিশাল আত্মত্যাগ বর্তমান বিশ্বের মুসলমানদের জন্য এক অনন্য শিক্ষণীয় দৃষ্টান্ত।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...