বিজ্ঞাপন
জেলা প্রশাসনের আয়োজনে শহিদ মিনারে প্রথম পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন শ্রম ও কর্মসংস্থান এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। এরপর একে একে বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন দপ্তর এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা শহিদ বেদিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন। বিএনপির নেতৃবৃন্দসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে শহিদ মিনার প্রাঙ্গণ এক আবেগঘন পরিবেশে রূপ নেয়।
পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, "ভাষা দিবস এদেশের জাতীয় জীবনের এক অনন্য দিন। এই দিবসে সর্বস্তরে মাতৃভাষা চর্চা হোক আমাদের আগামীর অঙ্গীকার।" এ সময় তিনি শহিদদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ৮টায় সম্মিলিত নাট্য পরিষদ সিলেটে এক বর্ণাঢ্য প্রভাতফেরি আয়োজন করে। রিকাবীবাজারের কবি নজরুল অডিটোরিয়াম থেকে শুরু হওয়া এই প্রভাতফেরিটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে এসে মিলিত হয়। এ ছাড়া নগরের চৌহাট্টা এলাকায় শহিদ মিনারের সামনের রাস্তায় আঁকা হয়েছে আলপনা।
দিবসটি পালনে জেলা প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংগঠন দিনব্যাপী কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বেলা ১১টায় সিলেট শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ভাষা আন্দোলনের তাৎপর্য এবং মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষায় নতুন প্রজন্মের করণীয় বিষয়ে আলোকপাত করা হবে।
সারা দেশের ন্যায় সিলেটেও আজ সকল সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কবিতা আবৃত্তি, চিত্রাঙ্কন ও সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস তুলে ধরা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ অনেকে শহিদ হন। ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি লাভের পর থেকে বিশ্বজুড়ে এই দিনটি ভাষার মর্যাদা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে পালিত হয়ে আসছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...