বিজ্ঞাপন
শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দিনব্যাপী আয়োজিত এই সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গোপালগঞ্জ-২ আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ডাঃ কে এম বাবর। অনুষ্ঠানে তিনি হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রতিটি হিন্দু অধ্যুষিত ইউনিয়নে একটি করে মডেল মন্দির নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন।
রঘুনাথপুর পশ্চিমপাড়া হরি মন্দির মাঠে আয়োজিত এই সম্মেলনে এমপি বাবর বলেন, “হিন্দু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা, ধর্মীয় স্বাধীনতা ও বসবাসের অধিকার নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব। রঘুনাথপুর যেহেতু হিন্দু অধ্যুষিত এলাকা, তাই এখানে একটি আধুনিক মডেল মন্দির নির্মাণ করা হবে। কেউ যেন আপনাদের ওপর অন্যায়-অত্যাচার বা জুলুম করতে না পারে, সেজন্য আমি অতন্দ্র প্রহরীর মতো পাশে থাকব।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু বলে কোনো বিভাজন থাকা উচিত নয়; বরং আমরা সবাই বাংলাদেশি হিসেবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করব।
শ্রী শ্রী শান্তিহরি গুরুচাঁদ মন্দির কমিটির আয়োজনে ২০২২ সাল থেকে প্রতিবছর ফাল্গুন মাসের প্রথম সপ্তাহে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবুল বিশ্বাস জানান, এবারের সম্মেলনে গোপালগঞ্জ ও পার্শ্ববর্তী জেলার প্রায় ১০০টি মতুয়া দল অংশ নিয়েছে। ডঙ্কা-নিশান ও করতালের ধ্বনিতে পুরো এলাকা মুখরিত হয়ে ওঠে এবং প্রায় ৩০ হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। আগত ভক্তদের জন্য মহাপ্রসাদেরও ব্যবস্থা ছিল।
সম্মেলনে অংশ নেওয়া খুলনা জেলার কামারখোলা এলাকার ভক্ত অজিত হাজরা জানান, ঠাকুরের নাম কীর্তন ও ধর্মীয় পরিবেশের টানে তিনি প্রতিবছরই এখানে আসেন।
স্থানীয় বাসিন্দা সিদ্ধার্থ বিশ্বাস সতু বলেন, হরিচাঁদ ঠাকুরের আদর্শ ছড়িয়ে দেওয়া এবং ধর্মীয় ঐক্য সুদৃঢ় করাই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য।
অনেক বছর পর একজন সংসদ সদস্য সরাসরি অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে আনন্দ ভাগাভাগি করায় আয়োজকরা অত্যন্ত উৎসাহিত বোধ করছেন।
আয়োজক কমিটি জানায়, হিন্দু-মুসলিম উভয় সম্প্রদায়ের আন্তরিক সহযোগিতায় অনুষ্ঠানটি নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। ধর্মীয় আবহ ও রাজনৈতিক আশ্বাসের মধ্য দিয়ে এবারের মতুয়া মহাসম্মেলনটি সর্বস্তরের মানুষের মাঝে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...