বিজ্ঞাপন
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমি আয়োজিত ‘অমর একুশে বইমেলা-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশে বইমেলা হলেও আমাদের অমর একুশে বইমেলা নিছক কোনো মেলা নয়; এটি মাতৃভাষার অধিকার আদায় ও রাষ্ট্রভাষা প্রতিষ্ঠার স্মারক। তবে মেলার আয়তন বাড়লেও সেই অনুপাতে গবেষণাধর্মী বই ও মানুষের বই পড়ার অভ্যাস বাড়ছে কি না, তা নিয়ে এখন চিন্তা-ভাবনার সময় এসেছে।
তিনি জার্মান দার্শনিক মার্কুইস সিসেরোর উক্তি উদ্ধৃত করে বলেন, ‘বই ছাড়া ঘর আত্মা ছাড়া দেহের মতো।’ গবেষণায় দেখা গেছে নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ায় এবং আলঝেইমার ও ডিমেনশিয়ার মতো রোগের ঝুঁকি কমায়।
তারেক রহমান বর্তমান সময়ে তরুণ প্রজন্মের ইন্টারনেট আসক্তি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ইন্টারনেট তথ্যের বড় উৎস হলেও বইয়ের পাতার কালো অক্ষরে জ্ঞানার্জনের যে গভীরতা, তা ডিজিটাল স্ক্রিনে সম্ভব নয়। ইন্টারনেটের আসক্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ কমিয়ে দিচ্ছে বলে আন্তর্জাতিক গবেষকরাও সতর্ক করেছেন। তাই প্রযুক্তির নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন থেকে বইয়ের প্রতি আগ্রহ বাড়ানো জরুরি।
বই পড়ার বৈশ্বিক পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, সিইও ওয়ার্ল্ড ম্যাগাজিনের জরিপ অনুযায়ী ১০২টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৯৭তম। বাংলাদেশের মানুষ বছরে গড়ে মাত্র তিনটি বই পড়ে এবং মাত্র ৬২ ঘণ্টা সময় দেয়, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই মেলা আমাদের আরও বইপ্রেমী করে তুলবে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৫২-এর শহীদদের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত এই বাংলা একাডেমি আগামীতে ‘অমর একুশে আন্তর্জাতিক বইমেলা’ আয়োজনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে। এটি বিশ্ব সাহিত্যের সঙ্গে আমাদের নাগরিকদের মেলবন্ধন ঘটাবে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে টিকে থাকতে মাতৃভাষার পাশাপাশি একাধিক ভাষায় জ্ঞান থাকা জরুরি। একইসঙ্গে বাংলা ভাষাকে জাতিসংঘের অফিসিয়াল ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করেন তিনি।
বইমেলাকে কেবল ফেব্রুয়ারি মাসে রাজধানী কেন্দ্রিক সীমাবদ্ধ না রেখে সারা বছর দেশের প্রতিটি বিভাগ, জেলা ও উপজেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান তারেক রহমান। এ বিষয়ে প্রকাশকদের উদ্যোগে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় সব ধরণের সহযোগিতা দেবে বলে তিনি আশ্বাস দেন। তরুণ প্রজন্মের মেধা বিকাশে বাংলা একাডেমির বিভিন্ন গবেষণাবৃত্তি ও প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আগামীতে আরও সম্প্রসারিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...