Logo Logo

ফ্যামিলি কার্ডে স্বজনপ্রীতি চলবে না: বরিশালে তথ্যমন্ত্রী স্বপন


Splash Image

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন শুক্রবার সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজের সম্মেলন কক্ষে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। ছবি: বাস

স্বজনপ্রীতি ও দলীয় প্রভাবমুক্ত থেকে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতার সঙ্গে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, সঠিক যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের হাতেই সরকারি এই সহায়তা পৌঁছে দিতে হবে। শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) সকালে বরিশাল সার্কিট হাউজে জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ভোরের বাণী’র পাঠকদের জন্য তথ্যমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ এই নির্দেশনার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো।


বিজ্ঞাপন


সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে তথ্যমন্ত্রী ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের নতুন রূপরেখা তুলে ধরেন। তিনি জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে প্রকৃত সুবিধাভোগী নির্বাচনের জন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) নেতৃত্বে একটি বিশেষ টিম গঠন করা হবে। এই টিমে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের পাশাপাশি দুজন সমাজসেবক যুক্ত থাকবেন, যাতে সম্পূর্ণ দলীয় প্রভাবমুক্ত হয়ে স্বচ্ছতার সঙ্গে কার্ড বিতরণ নিশ্চিত করা যায়।

সভায় সঠিক ডাটাবেস ও পরিসংখ্যানের ওপরও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আধুনিক যুগে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ভুল ডাটাবেস সিস্টেমের বিকল্প নেই। একটি রাষ্ট্র কতটা সভ্য ও প্রাতিষ্ঠানিক চরিত্র অর্জন করেছে, তা নির্ভর করে সঠিক পরিসংখ্যানের ওপর। এ ক্ষেত্রে নিখুঁত তথ্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং দ্রুত সরবরাহের তাগিদ দেন মন্ত্রী।

দক্ষিণ বাংলার রাজধানী হিসেবে পরিচিত বরিশালের স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, এত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হওয়া সত্ত্বেও এখানে উন্নত চিকিৎসার চরম অভাব রয়েছে। গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সুচিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়া সাধারণ মানুষের জন্য যেমন কষ্টসাধ্য, তেমনি ব্যয়বহুল। এই সংকট নিরসনে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে দ্রুত আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসম্পন্ন হাসপাতালে রূপান্তর করা এখন সময়ের দাবি। পাশাপাশি বরিশালে একটি বিশেষায়িত ট্রমা সেন্টার স্থাপন করাও জরুরি হয়ে পড়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মো. খায়রুল আলম সুমনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার ফারজানা ইসলাম। এছাড়াও সভায় সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বমূল্যের বাজারে নিম্ন আয়ের মানুষদের স্বস্তি দিতে সরকার ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে ভর্তুকি মূল্যে পণ্য সরবরাহ করে থাকে। তবে বিভিন্ন সময় এই কার্ড বিতরণে স্বজনপ্রীতি, অনিয়ম ও দলীয়করণের বিস্তর অভিযোগ উঠেছে। প্রকৃত দরিদ্রদের বদলে প্রভাবশালীদের স্বজনদের কার্ড পাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে অতীতে। তথ্যমন্ত্রীর এই কড়া বার্তা সেই পুরোনো অনিয়মগুলো রুখে দিয়ে প্রকৃত অভাবীদের কাছে সরকারি সহায়তা পৌঁছানোর একটি শক্ত পদক্ষেপ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বিজ্ঞাপন বিজ্ঞাপন

আরো দেখুন


বিজ্ঞাপন

পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...