বিজ্ঞাপন
মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) উপজেলার ৯৮ নং অনুরাগ গৌরীপাশা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও পুরান বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পচা কলা বিতরণকে কেন্দ্র করে অভিভাবকদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও উত্তজনা সৃষ্টি হয়।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন রুটি, বিস্কুট, ডিম, কলা ও দুধ—এই পাঁচটি উপাদানের মধ্যে অন্তত দুটি প্রদান করা বাধ্যতামূলক। তবে ‘আইল্যান্ড ট্রেডিং লিমিটেড’ নামক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এই নিয়ম লংঘন ও নিম্নমানের খাবার সরবরাহের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সরবরাহকৃত অধিকাংশ কলাই ছিল পচা, কালো দাগযুক্ত এবং শিশুদের খাওয়ার অনুপযোগী। পচা খাবার বিতরণের প্রতিবাদে অভিভাবকরা চড়াও হলে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা ঘটনাস্থল থেকে সটকে পড়েন।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গত ১৭ নভেম্বর ২০২৫ থেকে এই কর্মসূচী শুরু হলেও শুরু থেকেই খাদ্যের মান নিয়ে প্রশ্ন ছিল। সরবরাহ চালানে (নং-২৭৯৩০) ১২০ গ্রাম বনরুটি, ১০০ গ্রাম কলা এবং ৬০ গ্রাম সিদ্ধ ডিম দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন মিলছে না।
অভিভাবকদের মতে, সরকারের বিপুল অর্থ ব্যয়ের এই প্রকল্পে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান শিশুদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে।
ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে স্থানীয় এজেন্টদের ওপর দায় চাপানো হলেও স্থানীয় এজেন্ট সজল ফকির অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে দীর্ঘ পথে পরিবহনের কারণে কিছু কলায় দাগ পড়তে পারে। তবে এ বিষয়ে সাংবাদিকরা প্রশ্ন করলে তিনি অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোসাঃ শিরিন বেগমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
তবে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শাহিনুল ইসলাম মজুমদার জানান, প্রধান শিক্ষকদের স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন কোনো পচা বা নিম্নমানের খাবার গ্রহণ না করে তা ফেরত দেওয়া হয়।
স্থানীয় সচেতন মহল শিশুদের পুষ্টি নিশ্চিত করতে এই অনিয়মের দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
জনপ্রিয়
বিজ্ঞাপন
পরবর্তী সংবাদ লোড হচ্ছে...